ব্যাট হাতে ২২ গজে দাঁড়িয়ে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন। বোলার ছুটে গেলেন ক্ষীপ্র গতিতে। বোল্ড। বাংলাদেশ ততক্ষণে প্রথমবারের মতো পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। বল হাতে ছুটে দেওয়া সেই বোলারটি ছিলেন রুবেল হোসেন। অনেকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা রুবেল অবসর নিয়ে ফেললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে।
বঙ্গোপসাগর হতে বহুদূরের ওশেনিয়া মহাদেশের দুই দেশ অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড। সেই দুই দেশে ২০১৫ সালের শুরুতে হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক যুগসন্ধিক্ষণ ছিল। প্রথমবারের মতো শেষ আটে খেলা সম্ভবই হতো না, যদি না সেই বলে অ্যান্ডারসন বোল্ড হয়ে যান রুবেলের বিপক্ষে।
ডানহাতি এই পেসারটি এমনভাবে বল করতেন যে প্রথম দেখায় মনে পড়ে যেত লঙ্কান শ্রীলঙ্কান লাসিথ মালিঙ্গার কথা। বোলিংয়ের অ্যাকশন একইরকম দেখতে। যদিও মালিঙ্গার মতো বর্ণাট্য ক্যারিয়ার নিয়ে অবসরে যাওয়ার ভাগ্য আমাদের রুবেলের হয়নি।

অ্যাডিলেড ওভালের সেই দিনের হাসির পেছনের নামটি যেমন রুবেল তেমনি বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য কান্নার কারণও হয়েছেন। ফিরে যেতে হয় তখন নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে। নিজেদের প্রথম ট্রফি জিতে যাওয়ার খুব কাছে চলে যাওয়া বাংলাদেশের মন ভেঙে দেন রুবেল ১৯তম ওভারে ২২ রান দিয়ে।
টেস্ট কিংবা টি-টোয়েন্টিতে খুব বেশি নিয়মিত না থাকা রুবেল দীর্ঘদিন পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে দলের অন্যতম পেসার ছিলেন। শতাদিক ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১২৯ উইকেট। সব ফরম্যাট মিলিয়ে সংগ্রহ ১৯৩টি উইকেট। নি:সন্দেহে ক্যারিয়ারটা আরও বড় হতেই পারত।
গেল প্রায় পাঁচ বছর লাল সবুজের জার্সি গায়ে খেলেননি। বিপিএলেও এখন দেখা যায় না আর তাঁকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রায় তিমিরে চলে যাওয়া রুবেল অবসর নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খুব বেশি স্মরণযোগ্য অর্জন না থাকলেও তাঁর কথা মনে পড়ে যাবে নিদাহাস ট্রফি কিংবা ১৫-এর বিশ্বকাপের কথা উঠলেই।











