মেসির কাছ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হলো না মার্টিনেজের!

মেসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে পাওয়ার চেয়ে নিজের দলে সতীর্থ হিসেবে পাওয়াটা এই গ্রহে যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

কাজটা ছিল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের চোট পরীক্ষা করা, কিন্তু সেসবের ধার না ধেরে মেসি দেখালেন নিজের চিরচেনা জাদু। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মার্টিনেজের হাতের চোট নিয়ে আর্জেন্টাইন শিবিরে দুশ্চিন্তা চলছে। অনুশীলনে মেসির কাজ ছিল দিবুর সেই চোটের গভীরতা প্রমাণ করে দেখা, কিন্তু, ফুটবলের এই জাদুকর বরং মার্টিনেজকে বিস্মিত করে দিলেন নিজের পায়ের শটে।

ইনজুরি কাটিয়ে মার্টিনেজ মাঠে ফিরেছিলেন বলের স্পর্শ পেতে আর নিজের ফিটনেস পরখ করে দেখতে। অধিনায়ক মেসির মুখোমুখি হয়ে তাঁর লক্ষ্য ছিল সাধারণ কিছু শট ঠেকানো। কিন্তু লিওনেল মেসির অভিধানে ‘সাধারণ’ বলে যে কোনো শব্দ নেই, অনুশীলনের মাঠে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন সেই চিরন্তন সত্য।

মেসির বাঁ পায়ের এক নিখুঁত শট বাতাসে ভেসে সোজা গিয়ে জড়াল জালের একেবারে ওপরের কোণায়। বাজপাখি হিসেবে খ্যাত মার্টিনেজ ডাইভ দেওয়ার সুযোগটুকুও পেলেন না, কেবল অপলক চোখে দেখলেন বলের গন্তব্য। চোট পরীক্ষার সেশনটি মুহূর্তেই রূপ নিল মেসির এক অনন্য মাস্টারক্লাসে।

নিজের সেরা সময় পেরিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও মেসি যে কতটা অপ্রতিরোধ্য, তা তাঁর সতীর্থরাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। মার্টিনেজের জন্য এ ঘটনা ছিল এক পরম স্বস্তির। মেসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে পাওয়ার চেয়ে নিজের দলে সতীর্থ হিসেবে পাওয়াটা এই গ্রহে যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনই হতে যাচ্ছে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। পুরো বিশ্ব যখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দিকে চোখ টিকিয়ে রেখেছে, মেসি তখন অনুশীলনেও বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন বয়সকে। এখন শুধু মাঠের লড়াইয়ে এই জাদুকরের হাত ধরে আলবিসেলেস্তেদের আরেকটি সোনালী অধ্যায় লেখার অপেক্ষা।

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link