ডার্ক হর্স নয়, জাপান এখন হিংস্র বাঘ!

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে জাপানের লক্ষ্য এখন আর কেবল চমক দেখানো নয়। মোরিয়াসুর শিষ্যদের চোখ এখন সরাসরি বিশ্বকাপের ট্রফিতে।

​ফুটবল মহাযজ্ঞে ‘ডার্ক হর্স’ বা চমক সৃষ্টিকারী দল হিসেবে জাপানের নাম নতুন কিছু নয়। কিন্তু ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল চমক দেখানো নয়। মোরিয়াসুর শিষ্যদের চোখ এখন সরাসরি বিশ্বকাপের ট্রফিতে। গ্রুপ এফ-এ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের সামনে জাপান এখন কেবল প্রতিপক্ষ নয়, রীতিমতো আতঙ্ক।

পরিসংখ্যান বলছে, গত নয়টি ম্যাচে ইউরোপের কোনো দলই জাপানের রক্ষণভাগের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। বর্তমান জাপান দলের মেরুদণ্ডটাও তৈরি হয়েছে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতেই। দাইচি কামাদা, তাকেফুসা কুবো কিংবা তানাকার মতো ফুটবলাররা বছর জুড়ে বিশ্বমানের ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে লড়াই করছেন।

তাই তাদের নিয়া গড়া এই দলকে ‘ডার্ক হর্স’ বলে ছোট করাটা এখন আদিখ্যেতা। দলের দীর্ঘদিনের অভিভাবক মায়া ইয়োশিদা আত্মবিশ্বাসের সাথে জানালেন, ‘শিনজি ওনো বা নাকাতাদের উত্তরাধিকার এখন অনেক বেশি পরিণত। তারা এখন ভয় পায় না, বরং যুদ্ধ করতে জানে।’

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি-স্পেনকে ধুলোয় মিশিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় জাপান। তবে শেষ ষোলোর সেই টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হার এখনো জাপানি সমর্থকদের চোখে ভাসে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারবার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। কিন্তু এবার? ইয়োশিদা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লক্ষ্য এবার শেষ আটের সেই অদৃশ্য দেয়াল ভাঙা।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ড, ব্রাজিল ও জার্মানিকে হারানোর পর জাপান এখন আর নিছক কোনো অঘটন ঘটানোর দল নয়। নকআউট পর্বে জাপানের নাম শুনলেই এখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে পড়ে যাচ্ছে অস্বস্তির ছায়া। জাপান কি পারবে তাদের এই অপরাজেয় ফর্ম ধরে রেখে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন কোনো গল্প লিখতে? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link