বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে এবার চট্টগ্রামে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। কারণ কয়েকদিন আগেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ৩-০ হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নও দেখেছিল টাইগাররা, যদিও শেষ ম্যাচে কুপার কনোলির দুর্দান্ত ইনিংসে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
তবু আত্মবিশ্বাসের পাল এখন বাংলাদেশের পক্ষেই। আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই লিটন দাসের দল নামছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে, যেখানে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া এসেছে নতুন পরিকল্পনা ও নতুন বাস্তবতা নিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার দলে নেই ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, প্যাট কামিন্স কিংবা জশ হ্যাজলউডের মতো পরিচিত মুখ। কেউ বিশ্রামে, কেউ ব্যক্তিগত কারণে, আবার কাউকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে দলটি অনেকটাই রূপ নিয়েছে পুনর্গঠনের পথে হাঁটা এক অস্ট্রেলিয়ার।

তবে এই পরিবর্তনের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম মিচেল মার্শ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক, আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন করে দল গড়ার দায়িত্বও তার কাঁধে। অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসী ব্যাটিং—দুই দিক থেকেই মার্শ এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভরসা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ধরে রেখেছে সেই পেস আক্রমণ, যারা ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের বারবার চাপে ফেলেছিল। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানাকে নিয়ে গড়া এই বোলিং ইউনিট টি-টোয়েন্টিতেও হতে পারে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়া শক্তি। বিশেষ করে নাহিদের গতি এবং মুস্তাফিজের বৈচিত্র্য অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে এই সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যারন হার্ডি, কুপার কনোলি, নিখিল চৌধুরী ও জোয়েল ডেভিসদের মতো ক্রিকেটাররা নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবেন।

বাংলাদেশের জন্যও সিরিজটি কেবল আরেকটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুযোগ এবারও রয়েছে।
ওয়ানডেতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এবার প্রশ্ন একটাই—মিচেল মার্শের প্রত্যাবর্তনে নতুন চেহারার অস্ট্রেলিয়া কি ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি টি-টোয়েন্টিতেও নিজেদের আধিপত্যের গল্প লিখবে টাইগাররা?











