সকাল থেকেই ধুঁকছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং, মিরাজ, শান্ত আর সাদমান বাদে রানের খাতা খুলতে পারেননি প্রায় কেউই। তবু বোলারদের নিয়ে গড়া প্রতিরোধেই দিনের শেষভাগে এসে কিছুটা ভারসাম্য ফিরল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে।
সাদমান ইসলাম ৩১ রানের একটা চেষ্টা করলেও বড় করতে পারেননি ইনিংস, তানজিদ হাসান তামিম আর মুশফিকুর রহিম ফেরেন কার্যত শূন্য হাতে। মোমিনুল হকও থামেন ১৬ রানে। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৭ রানের লড়াইটাও শেষ হয় মাঝপথে, অমিত হাসান পারেননি বড় করতে ইনিংস। কোরি রোচিচিওলির স্পিনে একের পর এক ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার।
এমন ধসের মধ্যেই দলকে টেনে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে বোলারদের নিয়েই ছোট ছোট জুটি গড়ে প্রতিরোধ তৈরি করেন তিনি—সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান রান তোলার পথে। ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে অপরাজিত থেকে ২৬৩ রানে থামান বাংলাদেশের ইনিংস। রোচিচিওলি একাই নেন ৬ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। স্যাম কনস্টাস ও ক্যাম্বেল কেলাওয়ে দ্রুত ফেরেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের বলে। তবে কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপের প্রতিরোধে দিনের বাকি সময়টা নিরাপদে পার করে স্বাগতিকরা, দুজনই অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ২৬ ও ২২ রানে।
দিনের খেলা শেষে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে স্টাম্পে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ, বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ২১২ রানে।
ব্যাটিংয়ে ভরাডুবির দিনে মিরাজের একার লড়াই আর বোলারদের শুরুর আঘাত—এই দুই সুতোতেই দিনটা কিছুটা গুছিয়ে নিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে বাকি আট উইকেট তুলে নিয়ে লিডটা আরও বড় করতে পারবে কি বাংলাদেশ?












