মিরাজের বীরত্বে ২১২ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

সকাল থেকেই ধুঁকছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং, মিরাজ, শান্ত আর সাদমান বাদে রানের খাতা খুলতে পারেননি প্রায় কেউই। তবু বোলারদের নিয়ে গড়া প্রতিরোধেই দিনের শেষভাগে এসে কিছুটা ভারসাম্য ফিরল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে।

সকাল থেকেই ধুঁকছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং, মিরাজ, শান্ত আর সাদমান বাদে রানের খাতা খুলতে পারেননি প্রায় কেউই। তবু বোলারদের নিয়ে গড়া প্রতিরোধেই দিনের শেষভাগে এসে কিছুটা ভারসাম্য ফিরল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে।

সাদমান ইসলাম ৩১ রানের একটা চেষ্টা করলেও বড় করতে পারেননি ইনিংস, তানজিদ হাসান তামিম আর মুশফিকুর রহিম ফেরেন কার্যত শূন্য হাতে। মোমিনুল হকও থামেন ১৬ রানে। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৭ রানের লড়াইটাও শেষ হয় মাঝপথে, অমিত হাসান পারেননি বড় করতে ইনিংস। কোরি রোচিচিওলির স্পিনে একের পর এক ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার।

এমন ধসের মধ্যেই দলকে টেনে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে বোলারদের নিয়েই ছোট ছোট জুটি গড়ে প্রতিরোধ তৈরি করেন তিনি—সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান রান তোলার পথে। ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে অপরাজিত থেকে ২৬৩ রানে থামান বাংলাদেশের ইনিংস। রোচিচিওলি একাই নেন ৬ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। স্যাম কনস্টাস ও ক্যাম্বেল কেলাওয়ে দ্রুত ফেরেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের বলে। তবে কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপের প্রতিরোধে দিনের বাকি সময়টা নিরাপদে পার করে স্বাগতিকরা, দুজনই অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ২৬ ও ২২ রানে।

দিনের খেলা শেষে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে স্টাম্পে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ, বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ২১২ রানে।

ব্যাটিংয়ে ভরাডুবির দিনে মিরাজের একার লড়াই আর বোলারদের শুরুর আঘাত—এই দুই সুতোতেই দিনটা কিছুটা গুছিয়ে নিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে বাকি আট উইকেট তুলে নিয়ে লিডটা আরও বড় করতে পারবে কি বাংলাদেশ?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link