অজি বোলারদের তোপ সামলে সেঞ্চুরি হাঁকালেন মিরাজ!

একে একে সাজঘরের পথ ধরছিলেন সবাই, স্কোরবোর্ডে জমছিল শুধু হতাশা। অথচ সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই যেন একটা দেয়াল হয়ে উঠলেন মেহেদী হাসান মিরাজ—একা লড়ে গড়লেন এমন এক ইনিংস, যা ঢেকে দিল টপ অর্ডারের গোটা ব্যর্থতা।

একে একে সাজঘরের পথ ধরছিলেন সবাই, স্কোরবোর্ডে জমছিল শুধু হতাশা। অথচ সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই যেন একটা দেয়াল হয়ে উঠলেন মেহেদী হাসান মিরাজ—একা লড়ে গড়লেন এমন এক ইনিংস, যা ঢেকে দিল টপ অর্ডারের গোটা ব্যর্থতা।

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে আবারও পুরোনো রোগে ভুগল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মোমিনুল হক—কেউই পারেননি ইনিংস বড় করতে। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৭ রানের চেষ্টাটাও থেমে যায় মাঝপথে। মুশফিকুর রহিম ফেরেন শূন্য হাতে, অমিত হাসানও পারেননি বড় করতে ইনিংস। কোরি রোচিচিওলির স্পিন-জালে একের পর এক জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার, ৭০ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে দল।

এমন ধসের মাঝে দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নেন মিডল অর্ডারের মিরাজ। সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে এগিয়েছেন রান তোলার পথে। শেষে সৈয়দ খালেদ আহমেদকে নিয়ে গড়া জুটিতেই স্পর্শ করেন কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঘর। ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ব্যাট আরও শাণিত করেন, ক্রেনের এক ওভারেই মারেন জোড়া ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ২৬৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস, যেখানে একাই ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মিরাজ যা ছিল ১১ চার আর ৪ ছক্কায় সাজানো। দলীয় সংগ্রহের প্রায় অর্ধেকটাই যেন একার কাঁধে বয়ে নিয়েছেন তিনি।

টপ অর্ডারের বারবার হোঁচট খাওয়ার মাঝে আসল টেস্টের আগে এই লড়াকু ইনিংস কি তবে বার্তা দিয়ে রাখল, বাংলাদেশের ভরসার আরেক নাম এখন মেহেদী হাসান মিরাজ?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link