মেসি ঝড়ে ৪-২ ব্যবধানে বিশাল জয় ইন্টার মায়ামির!

বিশ্বকাপের ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছিল, ট্রফিটা হাতছাড়া হয়েছিল স্পেনের কাছে। কিন্তু মাঠে ফিরতেই যেন সেই ক্ষত ভুলিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি—১১ মিনিটে বাঁ পায়ের এক ভলিতে, ৪৪ মিনিটে আরেকটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। যেন বলে দিলেন, রূপকথা লেখা এখনো শেষ হয়নি তাঁর।

বিশ্বকাপের ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছিল, ট্রফিটা হাতছাড়া হয়েছিল স্পেনের কাছে। কিন্তু মাঠে ফিরতেই যেন সেই ক্ষত ভুলিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি—১১ মিনিটে বাঁ পায়ের এক ভলিতে, ৪৪ মিনিটে আরেকটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। যেন বলে দিলেন, রূপকথা লেখা এখনো শেষ হয়নি তাঁর।

সান লুইস প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল, মায়ামির রক্ষণে তখন কিছুটা এলোমেলো ভাব। ৪ মিনিটেই ডেভিড রদ্রিগেজের হেডে গোল হজম করে বসে ইন্টার মায়ামি। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে মায়ামির জার্সিতে দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেই পুরোনো ছন্দে ফেরেন মেসি। নোয়া অ্যালেনের বাঁ প্রান্ত থেকে করা ক্রসে দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন জাদুকর।

এরপর গল্পটা পুরোপুরি মায়ামির। ২৩ মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্তেরের বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান ২-১, তারপর তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোলে সেই লিড আরও পোক্ত। বিরতির ঠিক আগে আবারও অ্যালেনের পাস থেকে বল পেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে জালে জড়ান মেসি নিজে, রাতের দ্বিতীয় গোল। মেসির কর্নার থেকেই আরেকটি গোল করেন মিকায়েল দোস সান্তোস সিলভা, বিরতির আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করে সান লুইস, কিছুক্ষণের জন্য চাপও বাড়ায় মায়ামির ওপর। এরই মধ্যে বজ্রপাতের কারণে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় আধা ঘণ্টা। খেলা ফিরলেও আর গোল হয়নি, মায়ামি স্রেফ সময় গড়িয়ে ম্যাচ শেষ করে দেয়।

এই জয়ে দুটি বিশেষ প্রাপ্তি মেসির। লিগস কাপের চার বছরের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি—১২ ম্যাচে ১৪ গোল নিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গাকে। এই ম্যাচে লুইস সুয়ারেজকে পাশে পাননি মেসি—গত মৌসুমের ফাইনালে সিয়াটল সাউন্ডার্সের এক স্টাফের দিকে থুতু ছেটানোর ঘটনায় ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আছেন উরুগুইয়ান তারকা।

এই জয়ে ২০২৬ লিগস কাপ অভিযান শুরু করল ইন্টার মায়ামি, আর টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারাও অব্যাহত রাখল তারা। প্রশ্ন এখন একটাই—বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই কষ্ট ভুলে এই ছন্দ ধরে রেখে কি মায়ামিকে আবারও শিরোপার মঞ্চে তুলতে পারবেন মেসি?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link