ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশই ফেবারিট?

ট্রাই নেশন সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই অনুষ্ঠিত হবে শারজায়। সেখানে বাংলাদেশের আট ওয়ানডেতে জয় সাকল্যে একটি, সেটিও বছর দুয়েক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এই আট ম্যাচের মধ্যে ওই সিরিজের তিনটি বাদ দিলে বাকি ম্যাচগুলো নব্বইয়ের দশকের! অন্যদিকে, শারজায় ৩১ ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয় ২০টি, পরাজয় ১১টি। জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ এই মাঠে খেলেছিল ২০১৮ সালে। শারজায় ৩৩ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র ৯টি।

কী মনে হচ্ছে, অনায়াসেই ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ? সমর্থকদের অনেকেই হয়তো ইতোমধ্যে মেতে উঠেছেন শিরোপার প্রত্যাশায়। কিন্তু ক্রিকেটে নামের মহিমা নয়, চূড়ান্ত নির্ণায়ক মাঠের নৈপুণ্য। অতীতের পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক পরাজয়ের অভিঘাত আর ভেন্যুভিত্তিক জয়-পরাজয়ের সমীকরণ একসূত্রে গাঁথলে বাংলাদেশের সামনে প্রতীয়মান হয় এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। চোখ বোলানো যাক পরিসংখ্যানের পাতায়!

ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান ৮৪ ম্যাচে ৫২ জয় ও ৩২ হার! অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সেই একচ্ছত্র আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২২ সালে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয়ের পর চলতি বছরের জুলাইয়েও একই ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে শান্তরা! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজ জয় পাঁচ বছর আগে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২ ওয়ানডেতে দুই দলের জয় সমান ১১টি করে। কিন্তু সর্বশেষ চার ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ! চার বছর আগে সর্বশেষ সিরিজ জয়ের পর ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে সিরিজ খোয়ানো, ২০২৪ সালে শারজায় ২-১ ব্যবধানে পরাজয় এবং গত বছরের অক্টোবরেই আবুধাবিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার গ্লানি সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ৩১ ওয়ানডের দ্বৈরথে আফগানদের জয় ২০টি, জিম্বাবুয়ের ১০টি, আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

ভেন্যুভিত্তিক পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের যথেষ্ট অবকাশ রাখছে। আবুধাবিতে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ছয়টি ওয়ানডে খেলেছে, যার মধ্যে পাঁচটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এই মাঠে বাংলাদেশের সুখস্মৃতির ঝুলিতে রয়েছে ২০১৮ এশিয়া কাপে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি জয়।

বিপরীতে, আবুধাবিতে আফগানিস্তানের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ১১ ম্যাচে জয় আটটি, পরাজয় তিনটি। ২০২৫ সালে এই মাঠেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় নিমজ্জিত করেছিল তারা। আবুধাবিতে এখনো কোনো ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই জিম্বাবুয়ের।

ট্রাই নেশন সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই অনুষ্ঠিত হবে শারজায়। সেখানে বাংলাদেশের আট ওয়ানডেতে জয় সাকল্যে একটি, সেটিও বছর দুয়েক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এই আট ম্যাচের মধ্যে ওই সিরিজের তিনটি বাদ দিলে বাকি ম্যাচগুলো নব্বইয়ের দশকের! অন্যদিকে, শারজায় ৩১ ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয় ২০টি, পরাজয় ১১টি। জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ এই মাঠে খেলেছিল ২০১৮ সালে। শারজায় ৩৩ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র ৯টি।

বাংলাদেশ কি পারবে সাম্প্রতিক পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে শিরোপার মুকুট ছিনিয়ে নিতে? নাকি আফগানিস্তানের স্পিন-দাপট আর জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক ছন্দে আবারও ম্লান হবে বাংলাদেশের শিরোপা-স্বপ্ন?

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link