মরুর বুকে স্পিনের ঘূর্ণিতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই চ্যালেঞ্জ কি কেবল লাল সবুজের পতাকাবাহীদের জন্যই? মোটেই নয়। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকেও সামলাতে হবে প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণের দুরূহ চ্যালেঞ্জ। স্পিনের প্রসঙ্গ উঠলে এই তিন দলের মধ্যে সবার ওপরে থাকবে আফগানিস্তানের নাম, এমনটাই স্বাভাবিক।
রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ মরুর বুকে ঘূর্ণির মায়াজাল বিস্তার করে প্রতিপক্ষের জন্য যে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। ২০২৫ ও ২০২৬ সাল মিলিয়ে আফগান স্পিনাররা শিকার করেছেন প্রতিপক্ষের ৫০টি উইকেট। এর মধ্যে কেবল চলতি বছরেই পাঁচ ওয়ানডেতে তাঁদের ঝুলিতে জমা পড়েছে ২৯টি উইকেট।
বিপরীতে, গত বছর ছয় ম্যাচে তাদের শিকার ছিল ২১ উইকেট। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে তাই রশিদ খানকে মোকাবিলার জন্য আলাদা কৌশল নিয়েই মাঠে নামতে হবে। তাঁর গুগলি, লেগ স্পিন ও গতির বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মোহাম্মদ নবী ও আল্লাহ গজনফরের স্পিন সামলাতেও প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যাটিং কৌশল। শারজা কিংবা আবুধাবিতে স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরি হলে কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে আফগানিস্তান।

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট।
গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই।
রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

অন্যদিকে, স্পিনের পরিসংখ্যানে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় বেশ পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। দুই বছর মিলিয়ে দলটির স্পিনাররা সর্বসাকুল্যে শিকার করেছেন মাত্র ১৮টি উইকেট। এর মধ্যে চলতি বছরেই এসেছে ১০টি উইকেট! মরুর বুকে তাই যার স্পিনে থাকবে বেশি বিষ, যার কৌশলে থাকবে বেশি প্রজ্ঞা, আর যার স্নায়ু থাকবে সবচেয়ে দৃঢ়, ঘূর্ণির এই মহারণে শেষ হাসিটা হয়তো তারই হবে।










