টাক মাথার সেরা ক্রিকেট একাদশ

আর এই একাদশের সর্বশেষ নামটি নিউজিল্যান্ডের মিডিয়াম পেসার ক্রিস মার্টিনের। তবে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা যেতে পারে বাংলাদেশের তানভীর হায়দারকে। তানভীরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য খুবই সংক্ষিপ্ত। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের হয়ে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

খেলার মাঠে চুলের স্টাইল নিয়ে কত মাতামাতি! কারও স্পাইক, কারও লম্বা চুল, আবার কারও বাহারি হেয়ারকাট। কিন্তু যাদের মাথায় চুলের চেয়ে পিচের ঘাসের সঙ্গে মিলটাই বেশি, তাদের কি আর একাদশের বাইরে রাখা যায়? একাদশে জায়গা পেতে চুল থাকা বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম তো কোথাও নেই! তাই চলুন, ব্যাটে-বলে ঝড় তোলা আর মাথায় চাঁদের আলো ছড়ানো ক্রিকেটারদের নিয়ে বানিয়ে ফেলি একখানা ‘টাকমাথা একাদশ’!

ইনিংসের শুরুটা করবেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়া। একসময় যিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের ধরনই বদলে দিয়েছিলেন তাঁর মারকাটারি ব্যাটিংয়ের বদৌলতে। শুধু ব্যাটিং নয়, বাঁহাতি স্পিনেও ছিলেন বেশ কার্যকর। জয়াসুরিয়ার সঙ্গে ওপেনিংয়ে জুটি বাঁধতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রাসী ব্যাটার হার্শেল গিবস। শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, ফিল্ডিংয়েও বেশ নজরকাড়া ছিলেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।

ওপেনিং জুটি ভাঙলে কাকে নামাবেন? চোখ বন্ধ করেই এখানে যার নাম সবার আগে চলে আসবে, তিনি হাশিম আমলা। টেকনিক ও ধারাবাহিকতার জন্য বিখ্যাত এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার সুনাম কুড়িয়েছিলেন তাঁর ক্লাসিক্যাল ব্যাটিংয়ের জন্য।

আমলার পর নামানো যেতে পারে ভারতের বিনোদ কাম্বলিকে। বাঁহাতি এই ব্যাটার অল্প বয়সেই নিজের অসাধারণ প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন। শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে স্কুল ক্রিকেটে ৬৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে আলোচনায় আসা কাম্বলি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম চারটি সেঞ্চুরির মধ্যে দুটি করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি।

এই একাদশের পাঁচ নম্বর পজিশনটা বরাদ্দ করা যেতে পারে স্যার ভিভ রিচার্ডসের জন্য। ভয়ডরহীন ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একসময় বোলারদের তুলোধুনো করতেন এই ক্রিকেটার। তাঁর ঠিক পরেই আরেক ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা পাচ্ছেন ঠাঁই। তিনি ছিলেন শৈল্পিক ব্যাটিং, জাদুকরি শট আর বিশাল সব ইনিংসের প্রতীক।

উইকেটরক্ষক হিসেবে এই একাদশে থাকবেন ম্যাট প্রায়র। ইংল্যান্ডের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুটাই হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে।

এবার লোয়ার অর্ডারের শুরুতেই আসতে পারেন নব্বই দশকের গ্রেট ক্রিস হ্যারিস। ডিবলি ডবলি বোলিং, সাথে লোয়ার মিডল অর্ডারে কার্যকর বোলিংয়ের জন্য বেশ খ্যাতিমান ছিলেন তিনি। এখানে অবশ্য চাইলে টিনো বেস্টকেও রাখা যায়।

আগ্রাসী ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত এই ক্যারিবিয়ান পেসার ব্যাট হাতেও চমক দেখিয়েছিলেন। বেস্টের পরেই তালিকায় আছেন ইংল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচ। ২০১৯ সালের অ্যাশেজে বেন স্টোকসের মহাকাব্যিক ইনিংসে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন তিনি।

এই একাদশ থেকে কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যায় না অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা অফ স্পিনার নাথান লিঁওকে। তাঁর স্পিনের ঘূর্ণি যেকোনো সময় যেকোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

আর এই একাদশের সর্বশেষ নামটি নিউজিল্যান্ডের মিডিয়াম পেসার ক্রিস মার্টিনের। তবে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা যেতে পারে বাংলাদেশের তানভীর হায়দারকে। তানভীরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য খুবই সংক্ষিপ্ত। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের হয়ে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

একাদশে জায়গা পেতে চুলের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন পারফরম্যান্সের। আর সেই পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেদের আলাদা করে চিনিয়েছেন এই টাকমাথা ক্রিকেটাররা! আবার কেউ আশা দেখিয়েও হারিয়েছেন কালের গর্ভে।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link