অভিষেক শর্মা যখন মারেন তখন বৈভব সুরিয়াভানশির ইনিংসটাকেও স্লো মনে হয়। অভিষেক শর্মার ব্যাট যখন চলে দুনিয়ার সবকিছুই তাঁর সামনে খড়কুটো হয়ে উড়ে যায়। নতুন অনেক নামই তো আসছে টি-টোয়েন্টি জামানায়, তবে সত্য এটাই অভিষেক শর্মা ব্যাট চালালে নতুন-পুরাতন বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। তিনি আসলে টি-টোয়েন্টি জামানার ব্যাটার নন, তিনিই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংজ্ঞা।
১৫ বলে ফিফটি, ৩৫ বলে সেঞ্চুরি। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামল, প্রলয়ঙ্করী ঝড় উঠল, ওয়েলিংটনের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তাণ্ডব চলল অভিষেকের। গোলকটাকে ছাতুপেটা করে গেলেন কেবল। ভিডিও গেমসেও বোধহয় এভাবে মারা যায় না কোনো বোলারকে।
১৯৮ রানের লক্ষ্য। তবে ওসব হিসেব করার কোনো সময় নেই। ক্যালকুলেট করে খেলাটা যে অভিষেকের ধাঁচের নয়। তিনি আসবেন মারবেন, যাওয়ার হলে চলে যাবেন। এই বাইরে কোনো হিসাব-নিকাশ তাঁর মাথা কিংবা ব্যাটে নেই। নিউজিল্যান্ডের যে বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল সেটা শেষ করতে অভিষেকের জন্য তিন ওভারেই তো যথেষ্ট।

ওপেনিং জুটি থেকেই ভারত পেল ১৩৩ রান। তাঁর মধ্যে বৈভবের অবদান ৪৫। তিনি যখন ফিরে যাচ্ছেন অভিষেকের রান তখন ৮০। পার্থক্যটাই বুঝিয়ে দেয় অভিষেক কতখানি উচ্চতায় দাঁড়িয়ে।
গত দুই ম্যাচে ঝড় উঠেছিল ঠিকই, তবে তাঁর স্থায়িত্বকাল ছিল খুব সীমিত। সেই অপারগতা ঢাকতেই যেন নিজের সবটা উগরে দিলেন, ভেতরের দানবকে বাইরে নিয়ে এলেন অভিষেক।
বল যেখানেই পড়ুক, গুড লেন্থ, ফুলার বা শর্ট। সেটার ঠিকানা শুধুমাত্র একটা জায়গায় হতে পারে। গ্যালারি। এর অন্যথা হওয়ার উপায় নেই। ফিফটি পেরিয়েও সেই ঝড় চলল বেশ কিছুক্ষণ। অভিষেক বুঝি নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছেন, ৩০ বলে সেঞ্চুরি করা নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙবেন।তবে সেটা আর হলো না। তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল সংখ্যাটা ছুঁতে সময় লাগল ৩৫টা বল। শেষমেশ ঝড় থেমেছে ভারত যখন জয়ের থেকে ২১ রান দূরে।

৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তবেই অভিষেক ফিরেছেন সাজঘরে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি পাননি। দানবীয় অভিষেক যে সবকিছু তছনছ করে দিয়েছেন।










