ওয়াংখেড়েতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পারলে লাহোরে শাদাব খান পারবেন না কেন? ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি তো হয়। মহাকাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডটা তো চাইলেই লেখা যায়। শাদাব সেটাই লিখলেন। একা হাতে শেষ ব্যাটার হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ জেতালেন, সেঞ্চুরিকে ছাপিয়ে গেল তাঁর বীরত্ব। অজি রক্তের পাগলাটে ওই দানবকে কি ছাড়িয়ে গেলেন না শাদাব?
সবাই যখন ধরেই নিল সব শেষ, শাদাব খান তখন শুরু করলেন। সামনে এক অসম্ভবের দেয়াল, এক অলীক স্বপ্নের বন্ধনী, ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ পায়ে শিকল পরিয়েছে। তবে শাদাব খান এসবকে থোড়াই কেয়ার। টেল এন্ডারদের নিয়ে ইতিহাস গড়ার মিশনে নেমে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন। স্রেফ একা হাতে!
২৪২ রানের লক্ষ্য। অনায়াসে ছোঁয়া যায়। তবে দলটা যেহেতু পাকিস্তান, সব সম্ভবও তো তাঁদের কাছে অসম্ভব হয়ে যায়। টপ অর্ডারের সবাই ব্যর্থ, মিডল অর্ডারও ভাসা ভাসা চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিল। ১০৩ রানে ছয় উইকেট নেই, তখনই মঞ্চে এলেন শাদাব। পাকিস্তানের অতি বড় সমর্থক, যিনি শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়তে নারাজ, তিনিও কি ভেবেছিলেন ম্যাচে ফিরতে পারে দলটা?

ক্রিকেটে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম চলে না। এখানে সব হয়। কেউ যেমন ভিলেন হয়ে যান একটা ইনিংসে, কেউ হয়ে যান মহানায়ক। ১৫৪ রানে নয় উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। হারিস রউফ ছাড়া কেউ নেই আর। জয়ের থেকে ৮৮ রান দূরে। এটাও কি ছুঁয়ে দেখা সম্ভব? হিমালয়সম উচ্চতাকে এক লাফে ডিঙিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখার মতো নয় কি?
ওই যে শাদাব ইতিহাস হতে চাইলেন। পাকিস্তান ক্রিকেটে আজন্মকাল ধরে নিজের নামটা উচ্চারিত হোক, এটা চাইলেন। বিধাতাও নিরাশ করলেন তাঁকে। ৯৭ রানে আউট হয়েও ফিরে এলেন রিভিউ নামক দৈব শক্তির টানে। এরপর আর জয় ছাড়া দ্বিতীয় পথ ছিল না সামনে।
হারিসের সঙ্গে ৮৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি। পাকিস্তানের জার্সিতে প্রথম সেঞ্চুরি, বিশ্ব ক্রিকেটে আট নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করে সেঞ্চুরি করা থার্ড ব্যাটার। কী করেননি তিনি এক ম্যাচে! ৯৬ বলে ১১৩ রানের ইনিংসটা তাই অবিস্মরণীয় জয়ে থাকবে ক্রিকেটপাড়ায়।

ম্যাক্সওয়েল এর আগে করেছিলেন। তবে নামে-ভারে শাদাব যে তাঁর ধারেকাছেও নেই। ম্যাক্সওয়েলের কাছে একটা উপায় ছিল, তিনজন টেল এন্ডার হাতে ছিলেন। শাদাবের হাতে কেবল শেষ ব্যাটার হারিস। যেকোনো সময় তাঁর ইনিংসের জীবনপ্রদীপ নিভে যেতে পারত। মাহাত্ম্যের মানদণ্ডে শাদাব কি উপরে থাকবেন না? তবে সেটা থাক বা না থাক, শাদাব যা করলেন, সেটা ক্রিকেট মনে রাখবে বহুকাল।










