এমবাপ্পে-পিএসজি, কিছুই করার নেই রিয়ালের

কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদে যাবার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। মাদ্রিদের ক্লাবটিও নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রকাশ্যেই। কিন্তু বারবারই বাদ সেধেছে এমবাপ্পের বর্তমান ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। বিশ্বকাপ শেষের পর জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতেও এমবাপ্পের দল ছাড়ার গুঞ্জন জোরালো আছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এবারে খানিকটা নিশ্চুপ ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের রিয়াল মাদ্রিদ।

মোনাকোর হয়ে লিগা ওয়ান জয়ের পরই ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে প্যারিসের ক্লাবটিতে নাম লেখান এমবাপ্পে। নিয়মিত বিরতিতে লিগা ওয়ান জিতলেও অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এখনো ধরা দেয়নি এমবাপ্পেকে। এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে ফরাসি এই তরুণকে। সে কারণেই ক্লাব ছাড়তে মরিয়া হয়ে ছিলেন এই তারকা। গত মৌসুমে ফ্রিতেই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন এমবাপ্পে।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর থেকেই ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হয়েছে এমবাপ্পের। গুঞ্জন আছে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এমবাপ্পেকে নিয়ে মক করলেও মেসির নিশ্চুপ থাকাটা বেশ কষ্ট দিয়েছে ফরাসি তারকাকে। এছাড়া পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের সাথে সম্পর্কটা খানিকটা পড়তির দিকে।

সেই কারণেই কিনা এমবাপ্পের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রিয়াল মাদ্রিদ বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি তাঁর প্রতি। মূলত গত মৌসুমে দলবদলের একদম শেষ সময়ে এসে পিএসজির সাথে তাঁর চুক্তি নবায়ন ভালোভাবে নেয়নি মাদ্রিদ। এই ঘটনা সরাসরি ক্লাবের মর্যাদায় আঘাত করেছে বলেই ধরে নিয়েছেন মাদ্রিদের কর্তাব্যক্তিরা। সে কারণেই এই ফরাসিন তারকার পেছনে বিন্দুমাত্র সময় ব্যয় করতে চাইছে না লস ব্ল্যাংকোসরা।

অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ এখনো এমবাপ্পেকেই বিশ্বের সেরা তরুণ প্রতিভা এবং মেসি – রোনালদোর যোগ্য উত্তরসূরি ভাবে। কিন্তু গত মৌসুমে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অপ্রত্যাশিত উত্থান তাঁদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে ফরাসি তারকাকে দলে ভেড়াতে না পারার আক্ষেপ।

অভিজ্ঞ করিম বেনজেমাকে সাথে ভিনিসিয়াস জুনিয়র গত মৌসুমে রিয়ালকে লা লিগার পাশাপাশি এনে দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাও। সে কারণেই মাদ্রিদের কর্তাব্যক্তিরা এই ব্রাজিলয়ানকেই ক্লাবের ভবিষ্যত হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই মৌসুমের শুরুতেই তাই লোভনীয় অংকের অর্থে বড় সময়ের জন্য এই ব্রাজিলিয়ানের সাথে চুক্তি সেরে নিয়েছে তাঁরা।

পিএসজির সাথে এমবাপ্পের সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হওয়া সত্ত্বেও রিয়াল মাদ্রিদ এখনো নিশ্চুপ এসব কারণেই। তাঁরা জানেন প্যারিসের ক্লাব ছাড়তে মরিয়া এমবাপ্পে, তা সত্ত্বেও নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করছেন না তাঁরা। গুজন আছে এমবাপ্পে নিজেই চুক্তি বাতিলের পথ খুঁজে মাদ্রিদের ক্লাবে আসতে চান। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি। রিয়াল মাদ্রিদ একপ্রকার জানিয়েই দিয়েছে পিএসজির সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে তাঁরা রাজি নন।

সেক্ষেত্রে এমবাপ্পের সামনে একটাই পথ খোলা। তাঁর বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২০২৪ সালে। তিনি চাইলে সে সময়ে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রিয়ালে যোগ দিতে পারেন, সেক্ষেত্রেই কেবল পিএসজির সাথে আলোচনা এড়িয়েই এমবাপ্পেকে দলে টানতে পারবে তাঁরা।

এমবাপ্পে তাই দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও গত মৌসুম থেকে শিক্ষা নিয়েছে মাদ্রিদ। ভবিষ্যতে এমবাপ্পেকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও নিজেরা কোনোপ্রকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কেবলমাত্র পিএসজি নিজে থেকে এমবাপ্পের দাম ঠিক করে আলোচনায় বসার আহবান জানালে মাদ্রিদ বিবেচনা করে দেখবে তাদের সিদ্ধান্ত। এখন দেখার বিষয় আগামী ছয় মাসে এমবাপ্পেকে নিয়ে এই দলবদলের নাটক কোথায় পৌঁছায়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link