অবহেলার সুতোয় বাঁধা ক্রিকেটের নন্দনকানন

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের যে মান তা নিশ্চয় কাজে লাগানো উচিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যাটাও বাড়ানো উচিত। তবেই ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের তীর্থভূমি সত্যিকার অর্থে মর্যাদাটা পাবে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, অপার সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিকেটের পার্থেনন। তবুও দেশের ক্রিকেটে এটি যেন এক অবহেলার নাম, এক অসীম আক্ষেপের নাম। আউটফিল্ড থেকে শুরু করে গ্যালারি কিংবা উইকেট এখানে সবকিছুই উন্নত মানের, আন্তর্জাতিক মানের। শুধু তাই নয় সৌন্দর্যের বিচারে এটি যেন আরও এক ধাপ ওপরে। পাহাড়-টিলা, চা-বাগানের সবুজ সজীবতা। সব কিছু মিলিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম যেন দেশের ক্রিকেটের তীর্থভূমি।

তবে আক্ষেপের বিষয় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো নেহাত কম হয় এখানে। খানিকটা অবহেলার সুতোয় বাঁধা এই সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। সর্বশেষ পাঁচ বছরে এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে ১৬ টি। অন্যদিকে চট্টগ্রামে সংখ্যাটা ২৬, আর মিরপুরে সেটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫।

তবুও যখনই খেলা হয় দর্শকদের উন্মাদনা উচ্ছ্বাসের কমতি থাকে না। সিলেটে ম্যাচ মানেই হাউসফুল গ্যালারি। তাই তো কম ম্যাচ হওয়া নিয়ে এই দর্শকদেরই আফসোসের কমতিও অবশ্য নেই। তবে, স্বস্তির বিষয় বর্তমান এই আফসোসটা হয়তো কিছুটা হলেও কেটেছে। বিসিবি হয়তো বুঝতে পেরেছে সিলেট স্টেডিয়ামের কদর। তাই তো বিপিএল থেকে এনসিএল সবখানেই ম্যাচের সংখ্যাটা বেড়েছে আগের তুলনায়।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায় ঢাকার বাইরে সর্বশেষ পাঁচ বছরে সিলেটে ম্যাচ হয়েছে ৬৯টি, বিপরীতে চট্টগ্রাম পেয়েছে ৫১ ম্যাচ। আর এই কারণ মূলত সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা। বিশেষ করে সিলেটের উইকেট।

আধুনিক ক্রিকেটে যেমন উইকেট মানানসই সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যেন ঠিক তেমনইটাই। আর আউটফিল্ডটাও বাংলাদেশের যেকোনো স্টেডিয়ামের তুলনায় সেরা। সবমিলিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের যে মান তা নিশ্চয় কাজে লাগানো উচিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যাটাও বাড়ানো উচিত। তবেই ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের তীর্থভূমি সত্যিকার অর্থে মর্যাদাটা পাবে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link