বিপিএল মালিকদের মুখোমুখি অ্যালেক্স মার্শাল, তবুও শঙ্কা

তবে এত কড়াকড়ির পরও পুরোপুরি ঝুঁকি যে নেই, তা নয়। বাস্তবতা হলো—কাগজে-কলমে যাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক দেখানো হয়েছে, সবাই যে প্রকৃত মালিক, সেটা নিশ্চিত নয়। সেখানেই থেকেই যাচ্ছে বিপিএলের বড় ফাঁকফোকর।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর আগে নৈতিকতার ইস্যুতে এবার বেশ কড়াকড়ি অবস্থানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অ্যান্টি–করাপশন বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মার্শাল বুধবার সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কাটান।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তিনি একে একে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। অ্যালেক্স মার্শালের ক্লাসে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারা তাঁরা? সেই ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি।

আইসিসিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে অ্যালেক্স মার্শাল এবার প্রতিটি দলের মালিক ও ম্যানেজমেন্টকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে ফাইলও তৈরি করা হয়েছে। বিসিবি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বিপিএলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ করবে।

জানা গেছে এই কর্মশালা, এটি শুধু সচেতনতামূলক সেশন ছিল না—বরং বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যত ‘পরীক্ষা’ নিয়েছেন। দলের ভেতরের নানা বিষয় জানার চেষ্টা করা হয়েছে, কে কীভাবে যুক্ত আছেন—সেসব খুঁটিনাটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল ইন্টেগ্রিটি ইস্যুতে ‘শূন্য ছাড়’ নীতির কথা স্পষ্ট করে বলেন। তখনই তিনি জানান, প্রয়োজনে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নই দেখা গেল বুধবার। বিপিএল শুরুর আগে এই প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সরাসরি ইন্টেগ্রিটি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হতে হলো।

আগের আসরগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে বিসিবির অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে নমনীয়। দল পরিচালনা কিংবা ম্যানেজমেন্ট নিয়োগে তেমন কঠোর নির্দেশনা ছিল না। তবে এবার লিগ শুরুর আগেই সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের সন্দেহের তালিকায় থাকা কাউকেই টিম ম্যানেজমেন্টে যুক্ত হতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সন্দেহভাজন কেউ টিম হোটেলেও থাকতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিপিএলের গেল আসরেও ছিল ফিক্সিংয়ের আনাগোনা। সেই আসর শেষে স্বাধীন তদন্ত কমিটির ৯০০ পাতার রিপোর্ট ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। ওই রিপোর্টে স্পট ফিক্সিং কীভাবে ঢুকে পড়ে, কারা জড়িত থাকে—সবকিছু বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। কিছু কিছু নামও এসেছে, যাদের ব্যাপারে এবার রাখা হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা।

তবে এত কড়াকড়ির পরও পুরোপুরি ঝুঁকি যে নেই, তা নয়। বাস্তবতা হলো—কাগজে-কলমে যাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক দেখানো হয়েছে, সবাই যে প্রকৃত মালিক, সেটা নিশ্চিত নয়। সেখানেই থেকেই যাচ্ছে বিপিএলের বড় ফাঁকফোকর।

Share via
Copy link