মারকুটে ব্যাটার। সাথে লেগ স্পিন বোলিং করেন। মানে, পুরোদস্তর অলরাউন্ডার। এমন একজন চরিত্র বাংলাদেশের আজন্ম আক্ষেপ। তবে, এমন এক ‘বাংলাদেশি’র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গেছে। যদিও, সেটা বাংলাদেশের হয়ে নয়, কাতারের হয়ে।
পরিপূর্ণ এই বোলিং অলরাউন্ডারের নাম আরিফ নাসির উদ্দিন। ৩৪ বছর বয়সী আরিফ কাতারের ব্রাভো ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ হিসেবে কাজ করেন। আইসিসির লেভেল ওয়ান কোচিং সার্টিফিকেট আছে তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেক গত ১৮ জুলাই। দোহাতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলোই খেলেন আরিফ
১৯৯১ সালের ১০ মে ঢাকায় জন্ম আরিফ নাসির উদ্দিনের। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ছিল তাঁর নেশা। ডানহাতি ব্যাটার ও লেগ স্পিন বোলার—পুরোদস্তুর এক অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে সময় লাগেনি তাঁর।

কিন্তু, ভাগ্যের টানে একসময় প্রবাস জীবনের পথে হাঁটতে হয় তাকে। গন্তব্য কাতার। কর্মব্যস্ততার ভিড়েও ক্রিকেটকে ছাড়েননি। স্থানীয় ক্রিকেটে একের পর এক পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন সেখানকার নির্বাচকদের। ধীরে ধীরে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়েন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।
আজ তিনি কাতার জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ইতিমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে ভরসা, আবার বল হাতে দলের জন্য নির্ভরযোগ্য অস্ত্র। আর এবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাতারের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন—যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক।
আরিফের গল্প শুধুই ক্রিকেট নয়, এটি প্রবাসী এক তরুণের স্বপ্নপূরণের গল্প। ঢাকার গলি থেকে শুরু করে দোহা পর্যন্ত, আর সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে—এ যাত্রা প্রমাণ করে, প্রতিভা ও পরিশ্রম থাকলে সীমান্ত কোনো বাঁধা নয়।











