রান তাড়ায় বিরাটের তুলনায় শিশু বাবর

সমালোচকরা বলছেন, বাবরকে যদি সত্যিই সেই ‘রাজা’ হতে হয়, তাহলে তাঁকে শিখতে হবে কীভাবে চাপের সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয়। কারণ ক্রিকেটে রান তো অনেকেই করে, কিন্তু ইতিহাস লেখেন কেবল তাঁরাই, যারা চাপকে জয় করতে জানেন।

রহস্যময় এক হতাশায় পরিণত হয়েছেন বাবর আজম। এক সময় যাঁকে বলা হতো পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ‘কিং’, সেই কিং বারবার ধসে পড়ছেন রান তাড়ার চাপে। আর এখানে তিনি বিরাট কোহলির চেয়ে আলোকবর্ষ দূরে আছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছিলেন বাবর আজম। এশিয়া কাপের দলে জায়গা না পেয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে ফেরাটা ছিল তাঁর জন্য অনেক বড় সুযোগ — নিজের সেরা রূপটা দেখিয়ে সমালোচকদের চুপ করানোর সুযোগ। কিন্তু হয়নি। রান তাড়ায় বাবর ফিরলেন মাত্র দুই বল খেলে শূন্য রানে। ম্যাচ হারল পাকিস্তানও।

চাপটা যে বাড়ছে, সেটা পরিসংখ্যান বলছে আরও স্পষ্টভাবে। শেষ চারটি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে রান তাড়ার সময় বাবরের স্কোর—৩, ৩, ০, ০। এমন এক ব্যাটার, যিনি একসময় ‘পাকিস্তানের কোহলি’ নামে খ্যাত ছিলেন, এখন যেন নিজের ছায়া হয়ে গেছেন।

বাবর-কোহলি তুলনা নতুন কিছু নয়। দুজনেই ক্লাসিক ব্যাটার, দুজনেরই কভার ড্রাইভ দেখলে মনে হয় সময় থেমে গেছে। কিন্তু যখন প্রসঙ্গ আসে রান তাড়া করার—তখন পার্থক্যটা ভয়ংকর রকম স্পষ্ট। টি-টোয়েন্টিতে কোহলির গড় ৪৮.৬৯, বাবরের ৩৯.৪৬। স্ট্রাইক রেটে কোহলি ১৩৭, বাবর ১২৯। কিন্তু আসল ফারাকটা বোঝা যায় চেজিং পরিসংখ্যানে।

রান তাড়ার ম্যাচে কোহলি খেলেছেন ৫৪টি, করেছেন ২০১৩ রান। অবিশ্বাস্য ৬৭ গড় আর ১৩৬ স্ট্রাইক রেটে। অন্যদিকে, বাবর খেলেছেন ৬৭ ম্যাচে ১৮৯৬ রান, গড় নেমে এসেছে ৩৬-এ, স্ট্রাইক রেটও ১২৮-এর নিচে। অর্থাৎ, কোহলি যেখানে চাপকে প্রেরণায় পরিণত করেন, সেখানে বাবর চাপেই ভেঙে পড়েন।

বাবরের এই ব্যর্থতা কিন্তু টেকনিকের নয়—এটা মানসিকতার সংকট। স্কোরবোর্ডে বড় রান থাকলে তিনি যেন নিজের ছন্দ খুঁজে পান না। খেলার গতি বদলাতে পারেন না, গিয়ারের পরিবর্তনটা তাঁর ব্যাটে আসে না। কোহলি বরং এখানেই আলাদা—তিনি জানেন কোন বলটা এক রান, কোনটা দুই, আর কখন বাউন্ডারি দরকার। সেটাই তাঁকে করে তুলেছে ‘চেজমাস্টার’।

টি-টোয়েন্টিতে বাবরের রান সংখ্যা হয়তো কোহলির চেয়ে বেশি, কিন্তু সেই রানগুলোর ওজন কোথায়? বড় মঞ্চে, বড় মুহূর্তে, যখন দল চায় একজন নায়ক—তখনই তো প্রকৃত মহত্ত্বের প্রমাণ দিতে হয়। আর সেখানে বাবর এখনো অনেক পেছনে।

সমালোচকরা বলছেন, বাবরকে যদি সত্যিই সেই ‘রাজা’ হতে হয়, তাহলে তাঁকে শিখতে হবে কীভাবে চাপের সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয়। কারণ ক্রিকেটে রান তো অনেকেই করে, কিন্তু ইতিহাস লেখেন কেবল তাঁরাই, যারা চাপকে জয় করতে জানেন।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link