রেকর্ডবুক উজ্জ্বল হলেও বাবরের ব্যাটে গোধূলির শূন্যতা

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাবর আজমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে সমালোচনার জন্ম হয়েছিল, মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সমালোচনা যেন নিজেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন বাবর। একদিকে ক্যারিয়ারের সোনালী পরিসংখ্যান, অন্যদিকে সময়ের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে না পারার আক্ষেপ।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাবর আজমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে সমালোচনার জন্ম হয়েছিল, মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সমালোচনা যেন নিজেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন বাবর। একদিকে ক্যারিয়ারের সোনালী পরিসংখ্যান, অন্যদিকে সময়ের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে না পারার আক্ষেপ। সব মিলিয়ে বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার এখন এক কঠিন অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে।

মাঝে প্রায় দশ মাস পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা মেলেনি বাবরের। এমনকি এশিয়া কাপেও বাবরকে ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে নেমেছিল পাকিস্তান। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় আর নামের ভারে আবারও দলে ফিরে এসেছেন বাবর।

ফেরার পর তিনটি ফিফটি করলেও বিশ্বমঞ্চে এসে যেন আবারও নিভে গেল বাবরের ব্যাটের আলো। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের সাথে ১৮ বলে ১৫ রানের ইনিংস খেলে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন বাবর। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ৩২ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেললেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাথে ফিরেছেন মাত্র পাঁচ রানে।

যার টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ, অথচ তিনিই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। হাফ সেঞ্চুরির দিক দিয়েও সবার উপরের নামটি বাবরেরই। ১৩৫ ইনিংসে খেলতে নেমে ৩৯.০৬ গড়ে ৪৫৭১ রান করেছেন বাবর। কিন্তু স্ট্রাইকরেটটা ১২৮.১৮।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাড়ে তিন হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া ব্যাটারদের মধ্যে বাবরের স্ট্রাইকরেটটাই সর্বনিম্ন। আধুনিক টি-টোয়েন্টির যে মারকাটারি ব্যাকরণ, সেখানে বাবর যেন এক ব্যাকডেটেড বা সেকেলে অধ্যায়।

অন্য সব দলের ব্যাটাররা যেখানে পাওয়ারপ্লের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতিতে রান তুলে নেয়, সেখানে বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে বাবরের স্ট্রাইকরেট মাত্র ৮৬.১৭! পাওয়ারপ্লেতে ২১৭টি বল খেলে ১১৬টিতেই দিয়েছেন ডট। ছক্কা মেরেছেন মাত্র একটি। স্বাভাবিকভাবেই পাওয়ারপ্লেতে কমপক্ষে দুই শতাধিক বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে বাবরের স্ট্রাইকরেটটাই সর্বনিম্ন।

তার এই ধীরগতির স্বভাবই এই ফরম্যাটে তাকে ঘিরে শত-সহস্র সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। গ্রুপ পর্বে ব্যর্থতার সাক্ষী হলেও সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তার ব্যাট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের প্রত্যাশাই থাকবে পাকিস্তানি সমর্থকদের। অন্যথায়, রেকর্ড বুকের শীর্ষে নাম থাকলেও সাদা বলের এই ফরম্যাটে বাবর আজমের ভবিষ্যৎ যে ঘোর অন্ধকারের মুখে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link