নাহিদকে নিয়েই যত ভয় বাবর আজমের

বাবর আজমের ব্যাটিং নিয়ে সংশয় তোলার মতো মানুষ খুব বেশি নেই। সময়, টেম্পারামেন্ট, ক্লাস—সবকিছু মিলিয়ে তিনি এখনও এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটার। কিন্তু ক্রিকেট বড় অদ্ভুত খেলা। এখানে কখনো কখনো একজন বোলারই হয়ে ওঠেন কারও ব্যক্তিগত দু:স্বপ্ন। বাবরের জন্য সেই নামটাই এখন নাহিদ রানা।

গতি সবসময়ই ব্যাটারদের পরীক্ষা নেয়, কিন্তু নাহিদের ক্ষেত্রে বিষয়টা শুধু গতি নয়, অস্বস্তি। বল হাত থেকে ছাড়ার মুহূর্ত থেকে ব্যাটে আসা পর্যন্ত সময়টা এতটাই কম যে, পরিকল্পনা করার সুযোগই যেন থাকে না। আর সেখানেই বাবরের মতো নিখুঁত টেকনিকের ব্যাটারও খানিকটা অচেনা হয়ে যান।

মিরপুর টেস্টের আগে তাই বাবরের প্রস্তুতিটা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক। নেটে হয়তো তিনি বারবার ফিরে গেছেন সেই প্রশ্নে—কীভাবে সামলাবেন নাহিদের ঝড়ো গতি? পিএসএল ফাইনালের পর সতীর্থ অ্যারন হার্ডির সতর্কবার্তাটাও নিশ্চয়ই কানে বাজছে—নাহিদকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক হিসেবে নাহিদকে পাশে পেয়েছিলেন বাবর। তখন নাহিদের গতি ছিল তাঁর অস্ত্র। এখন সেই একই গতি হয়ে উঠেছে চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটে অবস্থান বদলাতে সময় লাগে না—মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের ব্যবধান কখনো কখনো এক ম্যাচই।

পরিসংখ্যানও খুব একটা আশ্বাস দিচ্ছে না বাবরকে। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডির সেই দুই টেস্ট এখনও মনে থাকার কথা—দুবারই নাহিদের শিকার। একবার সরাসরি বোল্ড, আরেকবার স্লিপে ক্যাচ। নাহিদের বিপক্ষে করতে পারেন মাত্র ১৩ রান। যেন প্রতিবারই নাহিদ বাবরের টেকনিকের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন, খুঁজে নিয়েছেন দুর্বলতার ক্ষুদ্রতম জায়গাটুকুও।

তার ওপর বাবরের নিজের সময়টাও খুব স্বস্তির নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির খরা লম্বা হচ্ছে, সর্বশেষ টেস্ট শতক সাড়ে তিন বছর আগের। মাঝখানে এসেছে কিছু ইনিংস, কিছু প্রতিশ্রুতি, কিন্তু সেই পুরোনো বাবরের ধারাবাহিক আধিপত্যটা আর দেখা যায়নি।

তবু গল্প এখানেই শেষ নয়। বড় ব্যাটারদের ফিরে আসার একটা আলাদা ক্ষমতা থাকে। আর সেই ফেরাটা যদি আসে কঠিনতম চ্যালেঞ্জের বিপক্ষে, তখনই সেটি হয়ে ওঠে সবচেয়ে স্মরণীয়। মিরপুরে তাই লড়াইটা শুধু বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান নয়। এটি বাবর আজম বনাম নাহিদ রানা। ক্লাস বনাম গতি। নিয়ন্ত্রণ বনাম আগ্রাসন।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সোজা — বাবর কি পারবেন নিজের পুরোনো ছায়া ভেঙে বেরিয়ে আসতে? নাকি নাহিদের গতি আবারও লিখে দেবে একই গল্প? কে হাসবে বিজয়ীর হাসি? উত্তর জানতে সময়ের অপেক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link