ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় সিরিজ হারলো বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল সাত ওভারে ৬৫, হাতে ছিল সাতটি উইকেট। কিন্তু, সহজ এই তাড়াটাই করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

বাংলাদেশের ব্যাটাররা ম্যাচ জেতাতে পারেন না। অস্ট্রেলিয়ার কাছে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে, এই কথাটাই যেন প্রমাণ করে দিল লাল-সবুজের দল। সহজ সমীকরণে জেতার মতো ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে গেল সাত রানের ব্যবধানে। 

প্রথম ম্যাচ তাড়া করে জেতা অস্ট্রেলিয়া এবার নামে আগে ব্যাট করতে। যদিও শুরুতে বাংলাদেশি বোলারদের ফাঁদে পড়ে টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারাতে হয় পাওয়ারপ্লের মধ্যে। সেসময় ম্যাট রেনশো আর  টিম ডেভিডের বড় জুটিতে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় অজিরা।

ডেভিড ৪৫ রান করে ফিরলে ভাঙে ৯৭ রানের বড় জুটি। ম্যাচের  বাকি সময়টা বাংলাদেশি বোলারদের ওপর তান্ডব চালিয়ে শেষ করেন রেনশো। এই বাঁহাতির ৫২ বলে ৮৯ রানের ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়া স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৯৬ রান।

সিরিজে লড়াই টিকিয়ে রাখতে তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। তানজীদ হাসান তামিমের মাত্র ১৫ বলে ৩০ রানের ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতে বড় সংগ্রহ আসে বাংলাদেশ দলের। যদিও এরপর তিনে নামা সৌম্য সরকার আগের ম্যাচের মতো এবারও ইনিংস বড় করতে পারেননি। 

অন্য ওপেনার সাইফ হাসানের সাথে জুটি গড়তে তখন এগিয়ে আসেন পারভেজ হোসেন ইমন। ২২ বলে ৩৬ রান করে ইমন আউট হওয়ার পর, সাইফও সাজঘরে ফেরেন ৪২ রান করে। ইমন আউট হওয়ার পরে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল সাত ওভারে ৬৫, হাতে ছিল সাতটি উইকেট। কিন্তু, সহজ এই তাড়াটাই করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ক্রিজে শেষ পর্যন্ত থাকলেও খেলতে পারেননি সময়োপযোগী ইনিংস। শামীম হোসেন পাটোয়ারি কিংবা আবদুল গাফফার সাকলাইন দায়িত্ব নিতে পারেননি। নির্ধারিত ওভার শেষ করে বাংলাদেশ ১৮৯ রানে। সহজেই যে লক্ষ্য তাড়া করে ফেলা যেত, সেখানেই ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় হারের মুখ দেখতে হলো বাংলাদেশকে। 

বোলারদের কখনো হাত ছুটলেই যেন ম্যাচও ছুটে যায় বাংলাদেশের। ভালো শুরুর পরেও অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রানে থামাতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমানরা। তাড়া করার পথে আর দায়িত্ব নেওয়াটা শিখলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা, তারই শাস্তি হিসেবে সিরিজ হারাতে হলো এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link