রক্ষণে দৃঢ়, আক্রমণে হিংস্র – অলরাউন্ডার বার্সা

সত্যি বলতে ফ্লিক বদলে দিয়েছেন ক্যাম্প ন্যুর আবহ; প্রতিটা ফুটবলার হয়ে উঠেছেন অলরাউন্ডার। এতেই মূলত দলটা হয়ে উঠেছে ভারসাম্যপূর্ণ, একদিকে দৃঢ় রক্ষণভাগ, অন্যদিকে আক্রমণে হিংস্র তাঁরা। সবমিলিয়ে বার্সা এখন অপ্রতিরোধ্য, লিগে ৬৪ গোলের বিপরীতে মাত্র ২৫ গোল হজম সেটারই সাক্ষ্য দেয়।

হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনার বিশেষত্ব আসলে কোথায়? উত্তরটা পাওয়া যাবে সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে; দলটা যেন গিরগিটি হয়ে উঠেছে, পলকে পলকে রং বদলায়। কখনো আল্ট্রা এটাকিং, আবার কখনো ব্যালেন্সড, কখনো পুরোদস্তুর ডিফেন্সিভ – পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা তাঁদের খেলার ধরন বদলে ফেলতে জানে মুহূর্তের মাঝে।

ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল বার্সা। সাফল্যও আসে তাতে, মাত্র সাত মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে দেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। তবে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় তাঁরা, আর সেটাই বোধহয় তাঁতিয়ে দিয়েছিল তাঁদের।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে নামা ফারমিন লোপেজ এক মিনিটের ব্যবধানে পেয়ে যান জালের দেখা। পেদ্রি যে পাসটা দিয়েছেন সেটা অবশ্য গোলের চেয়ে বেশি সুন্দর, ভিশন আর এক্সিকিউশনের সেরা কম্বিনেশন বলতেই হয়। পরের দৃশ্যপট পুরোপুরি রাফিনহার দখলে, বিদ্যুতের মত সেকেন্ডের ব্যবধানে সেভিয়ার জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি।

খেলার মোমেন্টাম বদলায় এরপরই, ট্যাকেল করতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন লোপেজ। ম্যাচের তখনো প্রায় ৩০ মিনিট বাকি। যদিও একজন কম নিয়ে খেলা কাতালান জায়ান্টদের কাছে কোন ব্যাপারই মনে হয়নি; আগের তুলনায় রক্ষণে বেশি মনোযোগী হয়েছিল ঠিকই, তবে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখেছিল। আর শেষদিকে তো আরো একটা গোলই পেয়ে গিয়েছে তাঁরা।

সত্যি বলতে ফ্লিক বদলে দিয়েছেন ক্যাম্প ন্যুর আবহ; প্রতিটা ফুটবলার হয়ে উঠেছেন অলরাউন্ডার। এতেই মূলত দলটা হয়ে উঠেছে ভারসাম্যপূর্ণ, একদিকে দৃঢ় রক্ষণভাগ, অন্যদিকে আক্রমণে হিংস্র তাঁরা। সবমিলিয়ে বার্সা এখন অপ্রতিরোধ্য, লিগে ৬৪ গোলের বিপরীতে মাত্র ২৫ গোল হজম সেটারই সাক্ষ্য দেয়।

আগের দিনই পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল দুই টেবিল টপার রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। সেভিয়ার বিপক্ষে জয়টা তাই ব্লাউগানা জার্সিধারীদের নিয়ে এলো শীর্ষস্থানের আরো কাছে। রিয়ালের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তাঁরা, শিরোপার ঘ্রাণ ভালভাবেই নাকে আসছে।

Share via
Copy link