জল ঘোলা করে জিতল বাংলাদেশ শরিফুলের কল্যাণে

শরিফুল ইসলাম দ্য হিরো। লং অন দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করলেন।

শরিফুল ইসলাম দ্য হিরো। লং অন দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করলেন। এর আগে দলের জয়ের রাস্তাটা তিনিই বরং তৈরি করে দিয়েছিলেন, তবে সেটা বল হাতে। ব্যাট হাতে তিনি সেই রাস্তা ধরে দলকে শেষ প্রতিবন্ধকতাটুকু পেরুতে সাহায্য করলেন। তাতে করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

এদিন টসে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ছোট বাউন্ডারি, তবুও বাংলাদেশের প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ হয়ে ধরা দিয়েছে বটে। যার কৃতীত্ব শরিফুল ইসলামের প্রাপ্য। তার সাথে নাসুম আহমেদের পেতে পারেন কৃতীত্ব। তবে এদিন বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দারুণ।

নতুন বলে শরিফুলের দুই ওভারে চাপের মুখে পড়েছিল আফগানরা। সেই দুই ওভারে শরিফুলের খরচা ছিল মাত্র ছয় রান। তবুও আফগানদের ওপেনিং জুটি থেকে এসেছিল ৫৫ রান। সেই রানের উপর দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহের স্বপ্নই বুনছিল আফগানিস্তান। রিশাদ হোসেনের ওভারে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। এছাড়া ২২ বলে ৩০ রান করা রহমানুল্লাহ গুরবাজকে ফেরান শরিফুল।

তাছাড়া নাসুমও আঘাত হানেন। নিয়মিত বিরতিতে আফগানিস্তান উইকেট হারাতে থাকে এরপর থেকেই। কিন্তু তাদের ব্যাটারদের ছোট ছোট ইনিংসগুলো তাদের ১৪৮ রানের লড়াই করবার মত পুঁজি পেতে সহয়তা করে। আগের দিন বাংলাদেশ দল টপ অর্ডারদের ভরসায় ১৫১ রানের লক্ষ্য টপকে গিয়েছিল। যদিও মিডল অর্ডার সেদিনও মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ফেল করে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দলীয় ১৬ রানের মাথায় দুই ওপেনার ফেরেন প্যাভিলিয়নে। সাইফ হাসানও দ্রুত ফেরেন ব্যক্তিগত ১৮ রানের মাথায়। আগের দিন ঠিক এরপর থেকেই বিপর্যয়ের শুরু হয়েছিল। তবে এদিন সেটি হতে দেননি অধিনায়ক জাকের আলী অনিক ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

দুই জনে মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে, দলকে ভরাডুবির হাত থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু তারা কেউই শেষ অবধি ফিনিশিং রেখা অবধি নিয়ে যেতে পারেননি দলকে। এবার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের লোয়ার মিডল অর্ডার। স্রেফ নুরুল হাসান সোহান টিকে ছিলেন স্বীকৃত ব্যাটারদের মধ্যে।

তিনি একটা প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু দলকে জেতানোর কাজটা মূলত করেছেন, শরিফুল। ইনিংসের ১৮ তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাই দু’টো উইকেট তুলে নিলে, বাংলাদেশের পরাজয়ের শঙ্কা জাগে। ১৯ তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমান সোহান। এরপরের গল্পের স্রেফ শরিফুল ইসলাম। তিনি বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলে নিয়েছেন নুর আহমেদের ঘূর্ণি।

দু’টো বাউন্ডারিতে তিনি তুলে ফেলেন ছয় বলে ১১ রান। তবে সোহান থাকার পরও শরিফুলকে স্ট্রাইকে পাঠানো দৃষ্টিকটু বটে। তবুও দিনশেষে ম্যাচ জয়ে হয়ত এই বিষয়টি আড়াল হয়ে যাবে। তবে এমন নির্বুদ্ধিতা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এবারই তো নতুন নয়। কিছুই যে বদলায়নি- এটাই বরং প্রমাণ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link