সোহানের আরেকটি লাইফলাইন!

আফগানদের বিপক্ষে দু'টো ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া সোহানকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে নিঃসন্দেহে। এই যাত্রা দীর্ঘায়িত করবার দায়িত্ব এখন তার উপর ন্যাস্ত। 

দু’টো ম্যাচ উইনিং নক, দু’টো অপরাজিত ইনিংস। নুরুল হাসান সোহান কি তবে শুরু করতে চলেছেন জাতীয় দলে নিজের আরও একটি ইনিংস? আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে নুরুল হাসান সোহানের প্রভাবটা স্পষ্ট। বিপর্যয়ের মুখে তিনি দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন দৃঢ়তা। দলের জয়ের শেষ অধ্যায় নিজ হাতে লিখতে না পারলেও তিনি থেকেছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত থেকেছেন ২৩ রানে। ১৩ বলে এই ২৩টি রানের গুরুত্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাপক। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের হুড়মুড় করে লুটিয়ে পরার মুহূর্তেও তিনি ছিলেন অবিচল। একজন ফিনিশারের দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন যথাযথভাবে।

দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংসের ১৮তম ওভারের প্রথম বলে তিনি হাঁকিয়েছিলেন ছক্কা। সেটাই ম্যাচের ব্যবধান কমিয়ে দিয়েছিল অনেকটা। এরপর যদিও তিনি নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন ম্যাচ শেষের ঘটনা। বাকি কাজটা নবম ব্যাটার শরিফুলই সামলে নিয়েছিলেন বটে।

তবে এখানেই বরং ওঠে প্রশ্ন। দলের আটটি উইকেট চলে যাওয়ার পরও সোহান, নবম ব্যাটারকে স্ট্রাইক প্রান্তে পাঠিয়েছেন। এমনকি ২১ বলে ৩১ রান করার পরও, তিনি অবলীলায় শরিফুলকে দিয়েছেন স্ট্রাইক। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত স্বীকৃত ব্যাটাররাই নেন দায়িত্ব। সোহানের এমন সিদ্ধান্ত তাই খানিকটা আত্মকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই হতে পারে বিবেচিত।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতা গেলেও, আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই সিদ্ধান্তগুলো পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সোহান খানিকটা আত্মকেন্দ্রিক হলেও হয়ত দোষের কিছু নেই। এটাই বরং একজন মানুষের স্বভাবজাত ডিফেন্স মেকানিজম। তিনি নিজেকে বাঁচাতে চাইবেন যেকোন পরিস্থিতিতে, যে কোন মূল্যে।

বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি একাদশে, সোহানের জায়গা তো মোটেও থিতু নয়। বরং তাকে খানিকটা চাপের মুখে যুক্ত করা হয়েছিল বাংলাদেশের এশিয়া কাপের স্কোয়াডে। সুতরাং সোহান একটু গা বাঁচিয়ে খেলবেন, সেটা হিউম্যান টেন্ডেন্সি। তবে এটা দীর্ঘায়িত হলে বরং তা বাংলাদেশকে করবে ক্ষতিগ্রস্ত।

কিন্তু ক্যারিয়ারের লাইফলাইন অন্তত পেয়ে গেছেন তিন আফগানিস্তান সিরিজে। জাকের আলী অনিকের উইকেট কিপিং ব্যর্থতায়, চারিদিকে চর্চিত হচ্ছে সোহানের কিপিংও। তার এখন স্রেফ প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। আফগানদের বিপক্ষে দু’টো ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া সোহানকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে নিঃসন্দেহে। এই যাত্রা দীর্ঘায়িত করবার দায়িত্ব এখন তার উপর ন্যাস্ত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link