সিরিজ তো হাতছাড়া হয়ে গেছে আগেই, কিন্তু ৪১৪ রানের ইনিংস যেন মনে করিয়ে দিল—এই ব্যর্থতার মাঝেও ইংল্যান্ড দলে কতটা শক্তি লুকিয়ে আছে। এ গ্রীষ্মে দ্বিতীয়বারের মতো ৪০০ পার করল তারা, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটাই প্রথম।
দিনের নায়ক অবশ্য ইংল্যান্ডের দুই সেঞ্চুরিয়ান। জ্যাকব বেথেল খেললেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি—এবং গত প্রায় অর্ধশতাব্দীতে কোনো ইংলিশ ব্যাটারের সবচেয়ে কম বয়সে ওয়ানডে শতক। তার পাশে অভিজ্ঞতার প্রতীক জো রুট, খেললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৯তম সেঞ্চুরি। শেষদিকে ঝড় তোলেন জস বাটলার।
এছাড়া জেমি স্মিথ আর বাটলার দুজনেই খেলেছেন দারুণ গতিময় অর্ধশতক। ফলে ৫০ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ড থেমেছে ৫ উইকেটে ৪১৪ রানে—প্রোটিয়াদের সামনে রেখে গেছে দমবন্ধ করা সমীকরণ।

ডেড রাবারের রোগটাই যেন ভর করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উপর। পরপর দুই ম্যাচে ৪০০ রান হজম করেছে তারা। গত মাসেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হজম করেছিল ৪৩১ রান, আজ ইংল্যান্ডের কাছে খেলো ৪১৪। বৃষ্টি দেরি করাল মাত্র ১৫ মিনিট, তারপর টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে যেন নিজেরাই নিজেদের বোলারদের চামড়া তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাল।
জ্যাকব বেথেলে ৮২ বল খেলে করেন ১১০ রান। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ জো রুট করেন ৯৬ বলে ১০০ রান। তবে, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল জশ বাটলারের ইনিংস, তিনি ৩২ বলে করেন ৬৩ রান। ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। নান্দ্রে বার্গার বা কোডি ইউসুফদের যেন জবাব দেওয়ার মত কোনো অস্ত্র বাকি ছিল না!
শুরুটা হয়েছিল যথেষ্ট ঝরঝরে—উদ্বোধনী জুটিতে এসেছিল ৫৯ রান। কিন্তু গতিটা আসলেই বদলে দিল দুই তরুণ কাঁধে ভর করে। জেমি স্মিথ করলেন ৬২, তবে আসল আঘাতটা এল জো রুট আর জ্যাকব বেথেলের ব্যাট থেকে। দু’জনেরই দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোণঠাসা করে দিল।

চাপ বাড়তেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং-ফিল্ডিং যেন একেবারে ভেঙে পড়ল। ১৯ টা ওয়াইড, উদাসীন শরীরী ভাষা—সব মিলিয়ে বোঝা গেল দলটা যেন মানসিকভাবেই খেলাটা ছেড়ে বসে আছে। শেষদিকে সেই সুযোগটা কাজে লাগালেন জস বাটলার। মাত্র ২৭ বলে ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। উইল জ্যাকসও খেললেন ছোট্ট অথচ কার্যকর ইনিংস। দিনশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। তারা শুধু ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের জন্য মঞ্চ সাজিয়েই দিয়েছে।










