বিশ্বকাপে এমবাপ্পে–হাল্যান্ডের মহাযুদ্ধ

দুই মহাতারকা, দুই গোলমেশিন, দুই প্রজন্মের দাপুটে মুখ—একই গ্রুপে। আর এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের উত্তেজনা, দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।

এই সময়ের ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হাল্যান্ড। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনো খেলছেন, এখনো জাদু দেখাচ্ছেন; কিন্তু বয়সের বাস্তবতা বলছে, তাঁরা আর ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু নন। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তাঁদের শেষ মঞ্চ, তবে সেই মঞ্চের আলো থাকবে নতুন দুই মহাতারকার ওপরেই—এমবাপ্পে ও হ্যালান্ড। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই দেখা হবে তাঁদের।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের আকর্ষণই যেখানে বিশ্বের কেন্দ্র, সেখানে এমবাপ্পে–হাল্যান্ড দুজনই নি:সন্দেহে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল দুই মুখ। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পে আর ম্যানচেস্টার সিটির হাল্যান্ড—দুজনেই এ মৌসুমে গোলে শীর্ষে। এমবাপ্পের গোল ১৬, হাল্যান্ডের ১৫—লিগে তাঁরা বাকিদের ছাড়িয়ে এগিয়ে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে ২০২৬ বিশ্বকাপে চরম উত্তাপ ছড়াবে, তা এবার আরও স্পষ্ট হয়ে গেলো ড্রয়ের ফলেই।

ওয়াশিংটন ডিসিতে হওয়া ড্র অনুষ্ঠানে দেখা গেল—একই গ্রুপে পড়েছে এমবাপ্পের ফ্রান্স ও হলান্ডের নরওয়ে। আই গ্রুপের বাকি দল দুটি—সেনেগাল ও প্লে–অফ জয়ী দল। কাগজে-কলমে ফ্রান্স ফেবারিট হলেও সেনেগাল ও নরওয়ে দুটোই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। বিশেষ করে নরওয়েকে তো ভয় দেখাতে হলান্ড একাই যথেষ্ট।

ড্র শেষে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যমও স্বীকার করেছেন, এমবাপ্পে–হাল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্বকাপকে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তাঁর ভাষায়, ‘দারুণ এক লড়াই হবে। অন্য বড় নামও আছে, কিন্তু কিলিয়ান আর হাল্যান্ড—এই দুজনই বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। দুজনেই গোল্ডেন বুটের বড় দাবিদার।’

আসলে তাই। চলতি মৌসুমেই দেখা যাচ্ছে তাঁদের গোলের রূপকথা—এমবাপ্পে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ২৪ ম্যাচে ৩০ গোল, হলান্ড ২৪ ম্যাচে ৩৩ গোল। দুজনই যেন ফুটবলের দুই ভয়ংকর গোলমেশিন, একই প্রজন্মের দুই অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।

এ গ্রুপে সেনেগাল থাকায় ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতিও ফিরে এসেছে। সেই আসরে প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বাদ পড়েছিল ফ্রান্স। তবে দেশ্যম স্মৃতি ঘেঁটে বসতে নারাজ, ‘প্রতিটি বিশ্বকাপের গল্প আলাদা। আমাদেরও নতুন করে শুরু করতে হবে।’

গ্রুপ আই-এ শীর্ষে থেকে শেষ ৩২–এ উঠলে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে তৃতীয় স্থানের কোনো দল। এরপর শেষ ষোলোতেই জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। এসব নিয়ে দেশ্যমের ভাবনা এখনই নয়, ‘আমাদের দল হিসেবে মর্যাদা আছে, প্রত্যাশা আছে। কিন্তু পা মাটিতে রেখে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। প্রথম ধাপটাই সবচেয়ে কঠিন।’

কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ফুটবলদুনিয়ার একটাই আলোচ্য—এমবাপ্পে বনাম হাল্যান্ড। দুই মহাতারকা, দুই গোলমেশিন, দুই প্রজন্মের দাপুটে মুখ—একই গ্রুপে। আর এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের উত্তেজনা, দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link