গতির ঝড়ে নেট থেকে মূল একাদশে

চলতি মৌসুমের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) গতির ঝড় তুলে বেশ নাম কামিয়েছে আনরিচ নর্কে ও লকি ফার্গুসন। এই দুইজনই সর্বোচ্চ গতির তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এতোদিন। সেই তালিকায় নাম তুললেন নব্য আরেকজন!

কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার ম্যাচ। প্লে অফের দৌড়ে আগেই বাদ পড়া হায়দ্রাবাদের একাদশ দেখতে গিয়ে চোখ আটকে গেলো অভিষিক্ত এক তরুন ক্রিকেটারের নাম দেখে!

– উরমান মালিক! কিন্তু, কে এই উরমান মালিক?

আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলছেন। কিন্তু এর আগে কখনো কেউই তাঁর নাম শোনেনি! আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়েছে মানে নিশ্চয়ই তাঁর মধ্যে বিশেষ কিছু একটা আছে।

বোলিংয়ে নেমেই সেই বিশেষত্বটা দেখালেন গতির ঝড় তুলে! ১৫০.০৬ গতিতে বল করে নাম লেখালেন সর্বোচ্চ গতির বোলিং তালিকার দশে। মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের অভিষেক ম্যাচে খেলতে নেমে গতি দিয়েই নজর কাড়লেন উরমান। চলতি মৌসুমে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গতির বল! এমনকি এই আসরে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গতির তিন বলই এখন উরমানের নামে!

উরমান মালিককে নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পর জানা গেলো এটি তাঁর পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় ম্যাচ! আইপিএলে অভিষেকের আগে মোটে দুটি স্বীকৃত পেশাদার ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এর মধ্যে লিস্ট ‘এ’ অভিষেকে ১০ ওভারে ৯৮ রান দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটা করেন দু:স্বপ্নের মতো। অনেক জায়গায়ই তাঁকে মিডিয়াম পেসার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়! কিন্তু গতির ঝলক দেখিয়ে সেটি পরবর্তীতে ভুল প্রমাণ করেন উরমান।

অবশ্য অভিষেক ম্যাচটায় নিজের সর্বোচ্চটা দিলেও পাননি সফলতা। ৪ ওভার বল করে ২৭ রানের বিনিময়ে পাননি কোনো উইকেট। তবে, গতি দিয়ে ঠিক মুগ্ধ করেছেন ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে দর্শকদেরও।

দলে সুযোগটাও পেয়েছিলেন অপ্রত্যাশিত ভাবে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকায় হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলতে পারছেন না পেসার থাঙ্গারাসু নটরাজন। তাঁর বদলি সুযোগ পান উরমান। নেট বোলার হিসেবে দলের সাথেই ছিলেন তিনি! নিয়মিত বোলার থাঙ্গারাুস নটরাজন না থাকায় নেট বোলার থেকেই সরাসরি পেয়ে গেলেন আইপিএলে খেলার সুযোগ। জম্মু কাশ্মীরের হয়ে টি-টোয়েন্টি ও লিস্ট ‘এ’ তে খেলেছিলেন মোটে দুই ম্যাচ। সেটিও চলতি বছরের শুরুর দিকে।

এই দুই ম্যাচে পেয়েছিলেন তিন উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ার সেরা ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন উরমান। অবশ্য লিস্ট ‘এ’  দু:স্বপ্নময় এক ম্যাচ কাটে তাঁর। সেখান থেকে নেট বোলার হিসেবে হায়দ্রাবাদের সাথে যোগ দেন তিনি। আর নেট বোলার থেকেই মূল দলে!

ধারাবাহিকভাবে ৯০ মাইল/ঘন্টায় বল করতে পারেন উরমান। ম্যাচে হারলেও ম্যাচ শেষে উরমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলে হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তিনি বলেন, ‘ উরমানকে আমরা নেটে খেলেছি। তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। সে অনেক জোরে বল করতে পারে, বলে দারুণ পেস আছে। কয়েকটা মৌসুম হল নেটে আছে, এখন বড় মঞ্চ পেয়েছে। দারুণ একটা প্রতিভা ভাবতেই পারেন ওকে।’

 

উইলিয়ামসন ছাড়াও উরমানে উচ্ছ্বসিত লোকের কমতি নেই। হার্শা ভোগলে যেমন টুইট করলেন, ‘উরমান মালিকের মত একজন তরুণের এই গতির ঝড় দেখতে দারুণ লাগছে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link