বাইশ গজের লড়াকু মানসিকতা থেকে শুরু করে ভারতীয় ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা – সবখানেই গৌতম গম্ভীরের নাম সমার্থক হয়ে আছে জেদ আর হার না মানা মানসিকতার সাথে। কিন্তু এই ‘জেদ’ যেন ব্যাক্তিগত সম্পর্কেও দেয়াল তুলে দেয়। বিরাট কোহলির দীর্ঘ আলোচিত ইস্যুর পর সম্প্রতি ভারতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিলের এক মন্তব্যে সেই পুরনো জল্পনা নতুন করে ডানা মেলেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, এক দশক আগে দল থেকে বাদ পড়ার অভিমান আজও ভুলতে পারেননি বর্তমান ভারতীয় কোচ গম্ভীর।
সন্দীপ পাতিলের ভাষ্যমতে, একসময় তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সাবলীল। এমনকি পাতিল যখন কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন, তখনও নিয়মিত খোঁজ নিতেন গম্ভীর। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আসত গম্ভীরের ফোন। অথচ সময়ের ফেরে সেই নিবিড় সম্পর্ক এখন শীতল।
একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পাতিল আক্ষেপের সুরে জানান, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি যখন নির্বাচক কমিটির প্রধান ছিলেন, সেই সময়েই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন গম্ভীর। আর সেই ঘটনার পর থেকেই নাকি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এই লড়াকু ওপেনার।

পাতিল কিছুটা হতাশ হয়েই বলেন, “গম্ভীর এখনো আমার ওপর ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে আমরা পাশাপাশি বসেছি, কিন্তু সে একবারের জন্যও আমার দিকে ফিরে তাকায়নি। আমি নিজে এগিয়ে গিয়ে ডাকলেও সে সাড়া দেয় না।” তবে গম্ভীরের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা যে কমেনি, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই প্রবীণ ক্রিকেটার।
ক্রিকেট ইতিহাসে মহাতারকাদের বিদায় সবসময় মধুর হয় না। পাতিলের মতে, একেকজন ক্রিকেটারের মানসিকতা একেক রকম। যেখানে রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলী কিংবা ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো কিংবদন্তিরা নিঃশব্দে ক্রিকেটের মঞ্চ থেকে প্রস্থান করেছেন, সেখানে গম্ভীর যেন এখনো সেই পুরনো হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।
মাঠের লড়াইয়ে গৌতম গম্ভীর বরাবরই এক লড়াকু সৈনিক। যার কাছে আপস শব্দটি চিরকালই অচেনা। তবে মাঠের সেই হার না মানা মানসিকতা কি ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণকেও কিছুটা জটিল করে তুলেছে? সন্দীপ পাতিলের এই স্মৃতিচারণ যেন সেই ধ্রুব সত্যকেই সামনে নিয়ে এলো।











