আচ্ছা বলুন তো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কি কখনো পিতা-পুত্র জুটিকে একই সাথে মাঠে নামতে দেখেছেন? দেখেননি নিশ্চয়ই। তবে সেই রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন পূর্ব তিমুরের দুই ক্রিকেটার। দুই সতীর্থের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ছাপিয়ে সুহেল সাত্তার (৫০) ও ইয়াহিয়া সুহেলের (১৭) সম্পর্কটা বাবা ছেলের। প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাবা-ছেলে জুটি একই সাথে নেমেছিল ময়দানে।
পূর্ব তিমুরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের সাথে জুড়ে গেল এক আন্তর্জাতিক রেকর্ড। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে, পূর্ব তিমুর খেলতে নেমেছিল স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ত্রি-দেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সাত্তার ও ইয়াহিয়া, দুইজনই প্রতিনিধিত্ব করেছেন পূর্ব তিমুরকে। আর এরই মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাই হয়েছে তাদের।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিভাবক ও সন্তান জুটি এবারই যে প্রথম খেলতে নেমেছিল- বিষয়টি তেমন নয়। এর আগে সুইজারল্যান্ডের মা ও মেয়ে জুটি নেমেছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে। মেটি ফার্নান্দেজ ও নায়না মেটি সাজু এখন পর্যন্ত জুটি বেঁধে ছয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সুইজারল্যান্ড নারী দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে পিতা-পুত্র একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ কিংবা সতীর্থ হিসেবে মাঠে নামার ঘটনা রয়েছে আরও বেশ কিছু। যেমন ক্যারিবিয়ান শিবনারায়ন চন্দ্রপাল ও তার পুত্র তেজনারায়ন চন্দ্রপল একই সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে নেমেছিলেন। এছাড়াও নিকট অতীতে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী তার পুত্র হাসান ইসাখিলের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন ঘরোয়া সার্কিটে।
তবে জাতীয় দলের হয়ে পিতা-পুত্রের জুটির প্রতিনিধিত্ব করার ইতিহাস আগেও ঘটেছে ক্রিকেটে। এশিয়ান গেমসে কুয়েতের দুই পিতা-পুত্র খেলতে নেমেছিলেন। পুত্র বাসতাকি ফাহাদের সাথে তার ৫৮ বছর বয়সী বাবা বাসতাকি মাহমুদ কুয়েত জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নেপাল ও বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের ম্যাচে একসাথে খেলেছেন তারা দুইজনে।
এমন বিরল ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিলেন পূর্ব তিমুরের দুই পিতা-পুত্র। যদিও তাদের শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। পূর্ব তিমুরের ইতিহাসের প্রথম তিন ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ততা সহ্য করতে হয়েছে সাত্তার-ইয়াহিয়া জুটিকে। সেই তিক্ততাকে কয়েকগুণ বাড়িয়েছে প্রতিটি ম্যাচে দশ উইকেটের পরাজয়।












