নিতীশ রেড্ডি কি এখনও পরীক্ষামূলক প্রকল্প?

ভারতীয় ক্রিকেটে কখনো কখনো কিছু খেলোয়াড় নির্বাচন যেন প্রচলিত ধারাকেই ভেঙে দেয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে নিতীশ কুমার রেড্ডির অন্তর্ভুক্তিও তেমনই এক সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। মাত্র ২১ বছর বয়সে বিশাখাপত্তনমের এই অলরাউন্ডার তখন পর্যন্ত খেলেছিলেন ২১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। সংখ্যায় যেমন সীমিত, পারফরম্যান্সেও তেমন চোখ ধাঁধানো কিছু ছিল না।

ব্যাট হাতে গড় কুড়ির ঘরে, সর্বোচ্চ ইনিংস ১৫৯। বলহাতে গড় প্রায় ২৭। কাগজে কলমে এই পরিসংখ্যান টেস্ট দলে ঢোকার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট দেখেছিল সম্ভাবনা।

এই আস্থার প্রতিদান নিতীশ শুরুতে দিয়েছিলেন বটে। পার্থে অভিষেক টেস্টে আট নম্বরে নেমে তাঁর ৪১ রানের ইনিংসই ছিল ১৫০ রানে থেমে যাওয়া ভারতীয় দলের সর্বোচ্চ স্কোর। দ্বিতীয় ইনিংসে আসে অপরাজিত ৩৮। অ্যাডিলেড টেস্টে দুই ইনিংসেই ৪২ রান প্রতিবারই দলের সেরা। আর মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে, হারলেও, আট নম্বরে নেমে তাঁর দুর্দান্ত ১১৪ রান স্পষ্ট করে দেয় – ভারত যেন এক নতুন অলরাউন্ডার পেয়ে গেছে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। টেস্ট ক্রিকেটে পরের দশটি ইনিংসে নিতীসশের ব্যাট থেকে এসেছে মোটে ১০৩ রান। এর মধ্যে দিল্লিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ নম্বরে নেমে করা ৪৩ রান বাদ দিলে পরিসংখ্যান আরও ফ্যাকাশে। ছয়টি ইনিংস শেষ হয়েছে শূন্য থেকে ৪ রানের মধ্যে। বল হাতেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিন।দশ টেস্টে মাত্র আট উইকেট, গড় ৪৫.৭৫।

সাদা বলের ক্রিকেটেও তাঁর যাত্রা খুব বেশি মসৃণ নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ১৫ মাসে তিনি খেলেছেন মাত্র সাতটি সীমিত ওভারের ম্যাচ। অথচ তাঁর শক্তিশালী মিডল অর্ডার ব্যাটিং, মাঝারি গতির কার্যকর বোলিং এবং ক্ষিপ্র ফিল্ডিং, সবই সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। তবে ৫০ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া এবং টি-টোয়েন্টিতে পান্ডিয়ার পাশাপাশি শিভম দুবের উপস্থিতিতে নিতীশ স্বাভাবিকভাবেই পছন্দের তালিকায় পিছিয়ে পড়েছেন।

সব কিছু ঠিক থাকেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নিতীশ আবারও ভারতের সাদা বলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে, তাকে প্রস্তুত করা হতে পারে।

নীতিশ রেড্ডির মধ্যে প্রতিভা আছে, সম্ভাবনাও আছে। কিন্তু শুধু সম্ভাবনা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা যায় না। ধারাবাহিকতা না থাকলে সেই প্রতিভার কোনো মূল্য নেই।  ভারত যদি সত্যিই তাঁকে ভবিষ্যতের অলরাউন্ডার হিসেবে দেখতে চায়, তবে তাঁকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও টানা সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় রেড্ডিও বনে যাবেন চাপ আর প্রত্যাশার ভারে নিজের প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলা এক নামমাত্র সম্ভাবনা।

 

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link