রিফিউজি ক্যাম্প থেকে ফুটবলের চূড়ায়!

২০১৯ সালে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে প্রমাণ করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে।

নিয়তি মানুষকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তার এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ আলফন্সো ডেভিস। যে দেশটি তাঁর মাতৃভূমি হওয়ার কথা ছিল সেখানে জন্ম হয়নি গৃহযুদ্ধের কারণে, বড় হতে হয়েছে রিফিউজি ক্যাম্পের হাজারো বাধার মধ্যে; সেই ডেভিসই আজ বিশ্বকাপে কানাডার ভরসার সবচেয়ে বড় নাম।

লাইবেরিয়ার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ডেভিসের পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল আফ্রিকারই আরেক দেশ ঘানার বুদুবুরাম রিফিউজি ক্যাম্পে। সেখানেই ২০০০ সালে জন্ম হয় ডেভিসের। তাঁর শৈশব কেটেছে অনিশ্চয়তা আর টিকে থাকার এক চরম সংগ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে রিফিউজি প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিবারসহ তিনি পাড়ি জমান কানাডায়।

অন্টারিও হয়ে এডমন্টনে থিতু হওয়া ডেভিসের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছিল ছোটবেলা থেকেই। প্রতিভার চিহ্নও দেখিয়ে অল্প বয়সেই নজর কাড়েন সবার। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি যোগ দেন ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস এফসি-এর একাডেমিতে। ২০১৬ সালে অভিষেক হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে। সেই সময়ে তিনি ছিলেন এমএলএস-এর ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড়। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এই কানাডিয়ান তারকাকে।  

মূলত লেফট ব্যাক হিসেবে খেললেও মিডফিল্ড আর লেফট উইঙ্গেও খেলতে পারেন ডেভিস। এমএলএসে দুইটি অসাধারণ বছর কাটিয়ে ২০১৯ সালে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে প্রমাণ করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে। জিতে নেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো মর্যাদাপূর্ণ শিরোপাও।

২০১৭ সালে কানাডার জার্সি গায়ে অভিষেক হয় এই তরুণের। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দেশের হয়ে গড়েন এক অসামান্য কীর্তি। সেবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে ডেভিসের করা গোল কোনো সাধারণ গোল ছিল না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেটি ছিল কানাডার সর্বপ্রথম গোল। 

রিফিউজি ক্যাম্প থেকে দেখে আসছেন জীবনের লড়াইকে। তাই তো শুধু তারকাখ্যাতির মধ্যেই  আটকে থাকেননি ডেভিস। অনেকদিন ধরেই কাজ করে আসছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের রিফিউজিদের অধিকার নিয়ে। নানা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও, আলফন্সো ডেভিস থেমে যাননি, আজ তিনি হয়ে ওঠেছেন কানাডার দলের সবচেয়ে আস্থার জায়গা। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link