স্বার্থহীনতার অনন্য গল্প লিখলেন আলমাদা!

ফুটবলের আসল সৌন্দর্য শুধু গোল করার মধ্যে নয়, বরং দলের কথা চিন্তা করে বল ছেড়ে দেওয়ার পরিপক্বতাতেও লুকিয়ে থাকে।

লিওনেল মেসি যখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন, তখন হয়তো একটা জিনিস বাদ পড়ে গেছে অনেক দর্শকের চোখ থেকে। গোলের পেছনে থিয়াগো আলমাদার বল না ছোঁয়া ফুটবলে স্বার্থহীনতার এক নতুন গল্প লেখে। যেখানে নিজের নাম উজ্জ্বল করার চেয়ে দলের জয়কে বড় করে দেখার এক অসাধারণ দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

ম্যাচের তখন ৩৮ মিনিট চলছে। কোনো দলই গোল দিতে পারেনি একটাও। সেই মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার বক্সে থাকা থিয়াগো আলমাদা চাইলে নিজেই বলটি রিসিভ করে শট নিতে পারতেন। কিন্তু গোল করার মোহের চেয়ে তাঁর ম্যাচ বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা সেই মুহূর্তে জয়ী হয়ে যায়। 

আলমাদা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর চেয়ে অনেক ভালো পজিশনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। আর ঠিক এই ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত সিদ্ধান্ত থেকেই তিনি আলতো করে বলটি ছেড়ে দেন স্পর্শ না করেই, যেখান থেকে মেসির ফিনিশিংয়ে দল পেয়ে যায় চমৎকার এক লিড।

ফুটবল কোনো একক মানুষের যুদ্ধ নয়, এ এক নিখুঁত দলগত খেলা। মাঠে সবসময় নিজেকে প্রমাণ করার অন্ধ তাগিদ থাকার চেয়ে, কখনো কখনো দলের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাই যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান হতে পারে।

আলমাদার এই নিস্বার্থতা শেখায়, লাইমলাইটে না এসেও কীভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়। ফুটবলের আসল সৌন্দর্য শুধু গোল করার মধ্যে নয়, বরং দলের কথা চিন্তা করে বল ছেড়ে দেওয়ার পরিপক্বতাতেও লুকিয়ে থাকে।

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link