লিওনেল মেসি যখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন, তখন হয়তো একটা জিনিস বাদ পড়ে গেছে অনেক দর্শকের চোখ থেকে। গোলের পেছনে থিয়াগো আলমাদার বল না ছোঁয়া ফুটবলে স্বার্থহীনতার এক নতুন গল্প লেখে। যেখানে নিজের নাম উজ্জ্বল করার চেয়ে দলের জয়কে বড় করে দেখার এক অসাধারণ দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
ম্যাচের তখন ৩৮ মিনিট চলছে। কোনো দলই গোল দিতে পারেনি একটাও। সেই মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার বক্সে থাকা থিয়াগো আলমাদা চাইলে নিজেই বলটি রিসিভ করে শট নিতে পারতেন। কিন্তু গোল করার মোহের চেয়ে তাঁর ম্যাচ বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা সেই মুহূর্তে জয়ী হয়ে যায়।

আলমাদা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর চেয়ে অনেক ভালো পজিশনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। আর ঠিক এই ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত সিদ্ধান্ত থেকেই তিনি আলতো করে বলটি ছেড়ে দেন স্পর্শ না করেই, যেখান থেকে মেসির ফিনিশিংয়ে দল পেয়ে যায় চমৎকার এক লিড।
ফুটবল কোনো একক মানুষের যুদ্ধ নয়, এ এক নিখুঁত দলগত খেলা। মাঠে সবসময় নিজেকে প্রমাণ করার অন্ধ তাগিদ থাকার চেয়ে, কখনো কখনো দলের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাই যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান হতে পারে।

আলমাদার এই নিস্বার্থতা শেখায়, লাইমলাইটে না এসেও কীভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়। ফুটবলের আসল সৌন্দর্য শুধু গোল করার মধ্যে নয়, বরং দলের কথা চিন্তা করে বল ছেড়ে দেওয়ার পরিপক্বতাতেও লুকিয়ে থাকে।










