কখনও বরুণ চক্রবর্তী, কখনও কুলদ্বীপ যাদব কিংবা অক্ষর প্যাটেল। আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইন আপে ত্রাস সৃষ্টি করলেন ভারতের স্পিন ত্রয়ী। আর সেই স্পিন ঘুর্ণীর সুবাদেই দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটা ব্যস্ত রাত কাটালেন বাংলাদেশি আম্পায়ার গাজী সোহেল।
দশম ওভারের দ্বিতীয় বল। বরুণ চক্রবর্তী যেন অস্থির হয়ে উঠলেন। বারবার আবেদন তুললেন, কিন্তু আম্পায়ার গাজী সোহেল আঙুল উঠল না। অফস্টাম্পের ওপর লেংথে ছোড়া গুগলি হঠাৎ ভেতরে ঢুকে এল তীব্র ঘূর্ণি নিয়ে। আসিফ খানের পায়ে গিয়ে লাগল। কোনোক্রমে অধিনায়ক সুরিয়াকুমারকে রাজি করালেন রিভিউ নেওয়ার জন্য।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেল, ব্যাটের কোনো ছোঁয়া নেই। শেষমেশ বল ট্র্যাকিং ভিন্ন ছবিই আঁকল। দেখা গেল, বল ঘুরে লেগস্টাম্পের বাইরে চলে যাচ্ছিল। রিভিউ মিস করল ভারত, বোঝা গেল গাজী সোহেল সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

তবে, সেই একই ওভারেই ভাগ্যের উল্টো রূপ দেখলেন সোহেল। এক বল বাদে ব্যাটার এবার ধ্রুব পারাশার। জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন বরুণের, আর সাথেসাথেই আম্পায়ারের আঙুল উঠল! পারাশার রিভিউ নিলেন সাথে সাথেই।
অফস্টাম্পের বাইরে ফুললেংথে বলটা ছোড়া হয়েছিল, সম্ভবত গুগলি। ভেতরে ঢুকে দ্রুত প্যাডে আঘাত করে। পারাশার ব্যাট বাড়ালেও মনে হলো মিস করেছেন। তাই আম্পায়ার দিলেন আউট। কিন্তু, রিপ্লেতে ধরা পড়ল ভিন্ন চিত্র। স্পষ্ট ইনসাইড এজ ছিল ব্যাটে। ফলে বেঁচে গেলেন পারাশার, ফিরিয়ে নিতে হলো সিদ্ধান্ত।
কাট টু ১২ তম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারি। অফস্টাম্পের বাইরে খানিকটা ভাসানো, ফুললেংথে বলটা পড়ল, পিচে লেগে হঠাৎ ভেতরে ঢুকে গেল তীব্র টার্ন নিয়ে। ব্যাট চালালেন সিমরানজিৎ সিং, কিন্তু পুরোপুরি মিস। বল গিয়ে আঘাত করল পায়ে।

অক্ষর প্যাটেলের আবেদনের ভিত্তিতে আম্পায়ার গাজী সোহেল একঝটকায় দিলেন আউট। সিমরানজিৎ অনেক ভেবে রিভিউ নিলেন। রিপ্লেতে দেখা গেল, আলট্রা এজ ঠিকমতো কাজ করছে না, ব্যাটের পাশে বল আসলেও ফ্ল্যাট লাইনই ধরা পড়ল।
এরপর ভরসা রাখা হলো বল ট্র্যাকিংয়ে। সেখানে দেখা গেল বল হালকা করে ছুঁয়ে যাচ্ছে লেগ স্টাম্পকে। ‘আম্পায়ার্স কল’-এর কারণে সিদ্ধান্ত অটুট থাকল। আরব আমিরাতের রিভিউ মিস না হলেও, আম্পায়ার গাজী সোহেল সম্ভবত হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।










