হেনরিখ ক্লাসেন: হায়দ্রাবাদের সবচেয়ে বড় ভরসা!

এই দলে আছে একজন হেনরিখ ক্লাসেন। যিনি ব্যর্থতার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও গড়ে তুলতে পারেন জয়ের প্রাসাদ।

অভিষেক শর্মা আর ট্রাভিস হেড  যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন হিসাব-নিকাশ, উইকেট বাঁচানো এসব শব্দ যেন অভিধান থেকেই মুছে যায়। চোখ বন্ধ করেই যেন ব্যাট চালান দুজনে। কখনও সেই আগুনে ব্যাটিংয়ে রান পাহাড় গড়ে ওঠে, আবার কখনও দ্রুত নিভেও যায় শিখা। কিন্তু তাতে কি আসে যায়? কারণ এই দলে আছে একজন হেনরিখ ক্লাসেন। যিনি ব্যর্থতার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও গড়ে তুলতে পারেন জয়ের প্রাসাদ।

২০২৬ আইপিএল আসর যেন একেবারে ক্লাসেনময়! ধারাবাহিকতা বলতে যা বোঝায়, তার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। ১১ ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছেন, আর প্রায় প্রতিবারই দলকে দিয়েছেন নির্ভরতার ছায়া। ৩০ রানের নিচে আউট হয়েছেন মাত্র দু’বার, একবার ২৯, আরেকবার ১১। বাকি সব ইনিংসে যেন তিনি একাই লিখে চলেছেন আধিপত্যের গল্প। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ম্যাচের শুরুতেই অভিষেক শর্মা আর ট্রাভিস হেড ঝড় তুলেছিলেন নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। পাওয়ারপ্লে মানেই যেন তাদের ব্যক্তিগত শো! বল উড়েছে আকাশে, ফিল্ডাররা থেকেছেন দর্শকের ভূমিকায়। সেই ঝড়ো সূচনার পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইনিংসের হাল ধরেন ইশান কিষাণ। তবে আসল নাটক শুরু হয় তখনই, যখন ক্রিজে তার সঙ্গী হন হেনরিখ ক্লাসেন।

দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের এক দারুণ জুটি। ইশান নিজের কাজটা করে গেছেন নিঃশব্দে, ফিফটি তুলে সরে দাঁড়িয়েছেন আলো থেকে। আর সেই আলো পুরোটা নিজের করে নিলেন ক্লাসেন।

আক্রমণ আর সংযমের এক অসাধারণ মিশেল দেখা গেল তার ব্যাটিংয়ে। মাত্র ৪৩ বলেই খেললেন ৬৯ রানের ঝলমলে ইনিংস। এটাই এবারের আসরে তার পঞ্চম ফিফটি। ইনিংস জুড়ে ছিল শক্তির ছাপ, ছিল সময় বুঝে গিয়ার বদলের নিখুঁত দক্ষতা।

ক্লাসেনের এই ইনিংসের ওপর ভর করেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ আবারও তুলে ফেলল ২৩৫ রানের বিশাল সংগ্রহ। এমন স্কোর এখন যেন তাদের জন্য নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর তার পেছনের সবচেয়ে বড় কারিগর এই ক্লাসেন। যেখানে অন্যরা ঝড় তোলে, সেখানে তিনি গড়ে তোলেন স্থিরতার দেয়াল। যেখানে ম্যাচ দুলতে থাকে অনিশ্চয়তায়, সেখানে তিনিই যে এনে দেন নিয়ন্ত্রণ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link