ভিক্টোরি ল্যাপ হল, সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো চলল, দেশের অভ্যন্তরীন সংকট কাটিয়ে ক্রিকেট মাঠে দেশের নাম উজ্জ্বল করল নেপাল ক্রিকেট দল। নেপালের ইতিহাসে এটা এক অবিস্মরণীয় দিন—ক্রিকেট দুনিয়ার চোখে ভাসলো নতুন আলোয়, লাগল অবাক বিস্ময়ের দোলাচল।
এশিয়ার তথাকথিত দুর্বল দল হিসেবে পরিচিত নেপাল উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে রচনা করল এক প্রজন্মের জয়গাথা। আট বারের মোকাবেলার পর এবারই প্রথমবারের মত নেপাল আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় পেল।
অর্জন করল নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অনন্য এক মাইলফলক। আর এই ঐতিহাসিক জয় অধিনায়ক রোহিত পাউডেল সাম্প্রতিক ‘জেনজি’ আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে, নেপালের বোলাররা নিয়মিত আঘাত হানে। এর সুবাদে শারজাহতে আসে ১৯ রানের জয়।

এক মহাকাব্যিক মুহূর্ত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে নেপাল এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। অধিনায়ক রোহিত পাউডেল উচ্ছাস ভরা কণ্ঠে বলেন, ‘একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারানোর জন্য আমরা বহুদিন অপেক্ষা করছিলাম, আর সেটা এলো আমাদের ঘরের বাইরে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এখানে ১৫০-১৬০ রান সাধারণত জয়ের মতো সংগ্রহ, আর আমরা সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পেরেছি। দলের ৮০-৯০ শতাংশই নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। আমাদের স্পিনাররা দুর্দান্ত খেলেছে। এটা কেবল শুরু, সামনে আরও অনেক কিছু বাকি।’
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয়। নেপালের ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি। ১২ রানে দুই উইকেট হারানো নেপাল ম্যাচে ফিরে অধিনায়ক রোহিত ও কুশল মাল্লার ব্যাটে। রোহিত ৩৫ বলে করেন ৩৮ রান। কুশল মাল্লা ২১ বলে করেন ৩০। গুলশান ঝাঁ-এর ১৬ বলে ২২ রানের ইনিংসে ভর করে আট উইকেটে ১৪৮ রান করে নেপাল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলে বড় তারকারা না থাকলেও, তারা নিশ্চিতভাবেই ভেবেছিল এই রান সহজেই টপকে যাবে। কিন্তু তাদের ব্যাটিং লাইনআপের অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট হয়ে গেল—স্পিনারদের বোলিংয়ে দম বন্ধ হয়ে গেল, আর মধ্য ওভারে অতিরিক্ত ডট বল খেলায় চাপ বেড়ে যায়। নিয়মিত উইকেট হারানোও তাদের পিছিয়ে দেয়, ফলে শেষ দিকে হোল্ডার, আকিল হোসেন বা ফাবিয়ান অ্যালেনের পক্ষে আর কিছু করার সুযোগ থাকেনি।

নেপাল দারুণভাবে নিজেদের স্নায়ুর জোর ধরে রাখল, আর ম্যাচটা শেষ করল এক গৌরবময় দিনের সাক্ষী হয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তারা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, এবার সত্যিই তারা ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে দিল। ১৮০ ম্যাচের অপেক্ষার পর পূর্ণ সদস্যর বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল তাঁরা। ২০১৪ বিশ্বকাপে তাঁরা আফগানিস্তানকে হারালেও আফগানরা তখন ছিল সহযোগী সদস্য।
অন্যদিকে আবারও এক সহযোগী দলের কাছে হারের স্বাদ পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ—২০২২ সালের বিশ্বকাপে হোবার্টে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তাঁরা। এর আগে ২০১৪ সালে তারা হেরেছিল আয়ারল্যান্ডের কাছে, আর ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরাজিত হয়েছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে — এই দুই দল তখনও সহযোগী সদস্য ছিল।










