ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয়, নাকি কৌশলী সময় নির্বাচন? পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) কেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের( আইপিএল) সময়েই আয়োজিত হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে হিসাবি বাস্তবতায়, ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনায়।
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই সময়টা যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মহাযুদ্ধক্ষেত্র। একসাথে চলছে বিগ ব্যাশ, এসএটি২০, আইএলটি২০, বিপিএল, তার উপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি। একই সময়ে দুই-তিনটি লিগ চলায় খেলোয়াড়দের ছড়িয়ে পড়া অবধারিত। বোর্ডগুলোর আন্তর্জাতিক সিরিজও তখন তুঙ্গে। ফলে, পিএসএল যদি এই সময়ের ভিড়ে জায়গা নিতে চায়, তাহলে বড় নামের ক্রিকেটারদের পাওয়া হয়ে যায় অনিশ্চিত, প্রায় অসম্ভব।
ঠিক এখানেই আলাদা পথ বেছে নেয় পিএসএল। তারা ঢুকে পড়ে আইপিএলের উইন্ডোতে, যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেকটাই স্তব্ধ। আইপিএলের জন্য আলাদা করে রাখা এই সময়টায় বড় বড় বোর্ডগুলো সাধারণত সিরিজ আয়োজন করে না। ফলে, আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ থাকে না বললেই চলে।

হ্যাঁ, এই সময় আইপিএলে প্রায় ৮০ জনের মতো আন্তর্জাতিক তারকা খেলতে যান। কিন্তু তার বাইরেও কি দুনিয়ায় মানসম্পন্ন ক্রিকেটারের অভাব আছে? একেবারেই না। বরং এই সময়েই পিএসএলের জন্য খুলে যায় বিশাল এক দরজা, যেখানে অন্তত আরও ১০০-এর বেশি কোয়ালিটি ক্রিকেটার পাওয়া যায়, যারা অন্য সময় বিভিন্ন লিগে ব্যস্ত থাকেন।
শুধু বিদেশিরাই নয়, পাকিস্তানের নিজের ক্রিকেটারদের জন্যও এই সময়টা আশীর্বাদ। কারণ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির ব্যস্ত মৌসুমে তারা চাইলে অন্য লিগে অংশ নিতে পারে, নিজেদের স্কিল ঝালিয়ে নিতে পারে, অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারে। এরপর নির্ভার হয়ে পিএসএলে যোগ দেয়।
অর্থাৎ, পিএসএল এখানে এক ঢিলে দুই পাখি মারে। একদিকে আন্তর্জাতিক সূচির চাপ এড়িয়ে যায়, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্রিকেটারদের একটি বড় পুল থেকে নিজেদের মতো করে দল সাজানোর সুযোগ পায়।

সময়ের এই কৌশলী নির্বাচন তাই কেবল বাধ্যবাধকতা নয়, বরং বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। আইপিএলের বিশালতার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করে, তার ছায়াতেই নিজেদের জায়গা তৈরি করার এক অনন্য চেষ্টা।











