অবশেষে এল সেই মুহূর্ত, যা কোটি ভারতীয়র স্বপ্নে জায়গা করে নিয়েছিল বছরের পর বছর ধরে। নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত! রবিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল হারমানপ্রীত কৌরের দল।
দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য সম্মানের সঙ্গেই মাথা উঁচু রাখতে পারে। একই টুর্নামেন্টে ৬৯ ও ৯৭ রানে অলআউট হওয়া দলটিই শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছে দেখিয়েছে দৃঢ় মানসিকতা। লরা উলভ্যার্টের নেতৃত্বে এই দল, যেখানে উঠতি তরুণ খেলোয়াড়দের ছড়াছড়ি, তাঁরা আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে—এমন আভাস মিলেছে তাদের পারফরম্যান্সেই।

তবে, এই রাত শুধুই ভারতের মেয়েদের। সেই স্বপ্নপূরণের রাত, যে ট্রফিটা এতদিন ছিল ভারতের নাগালের বাইরে। এবার হারমানপ্রীতের হাতে উঠল সেই সোনালি গৌরব, যা কোটি ভারতীয়র চোখে জল এনে দিয়েছে। বলা যায়, এটাই হয়তো ভারতের নারী ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা—যে যুগে আরও অনেক সাফল্যের গল্প লেখা হবে।
মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির আশঙ্কা আর ঢাকা উইকেট—সব বাধা পেরিয়েই ভারত লড়েছে, খেলেছে আগ্রাসী ক্রিকেটে। ওপেনার স্মৃতি মান্দানা ও শেফালি ভার্মা শুরুটা দারুণ করে দেন, পরে দীপ্তি শর্মা ও রিচা ঘোষের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে গতি পায় ইনিংস। এরপর বল হাতে দীপ্তিই হয়ে ওঠেন তারকা, সঙ্গে ছিলেন শেফালি।

দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ম্যাচে ফিরতে চাইলেও, ভারতের ঘূর্ণি আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি তারা। সেঞ্চুরি করে লরা উলভ্যার্ট একা লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় আটকাতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটা আরেকটি বেদনাদায়ক সন্ধ্যা, আরেকটি হারানো সুযোগ। তবুও তাদের লড়াই, ফাইনালে পৌঁছানোর যাত্রা—সবই সম্মানের দাবিদার।
ভারতীয়দের জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, এক পরিপূর্ণ স্বপ্নপূরণ। শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি গলি, প্রতিটি ঘরে উৎসবের আমেজ। এই জয় প্রমাণ করে দিয়েছে—পরিশ্রম, ধৈর্য আর বিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা নয়।











