এসেছে নতুন শিশু, তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান – না, যশস্বী জয়সওয়ালের জন্য আসলে ঠিক কাউকে জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে না। তাঁর জায়গাটা ভারতীয় দলের টি-টোয়েন্টি সেট আপে তৈরি হয়েই আছে। খোদ রোহিত শর্মা বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে বিদায় বলে দিয়েছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটকে।
এই অবস্থায় জয়সওয়ালের কাজ শুধু একটাই ছিল। সেটা হল রান করে যাওয়া, পারফরম করে যাওয়া। আর সেটা করতে গিয়ে তিনি চলতি বছরেরই সেরা রান সংগ্রাহক বনে গেছেন। ২০২৪ সালে ক্রিকেট দুনিয়ায় প্রথম ব্যাটার হিসেবে সব ফরম্যাট মিলে এক হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি।
চলতি বছর মাত্র ১৩টি ম্যাচে জয়সওয়াল ৬৩.৯৩ গড়ে এবং ৯৪.৫৪ স্ট্রাইক রেটে মোট ১০২৩ রান করেছেন। যেখানে দুটি সেঞ্চুরি এবং পাঁচটি অর্ধশতক আছে। এই সময়ে তিনি খেলেছেন টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি।

সাম্প্রতিক সময়ে জয়সওয়াল ঝড় তুলেছেন ২০ ওভারের ক্রিকেটে। যদিও, চলতি বছর তাঁর সেরা রূপটার দেখা মিলেছে টেস্ট ক্রিকেটে। এই সময়ে ছয় টেস্টের ১১ ইনিংসে তিনি করেছেন ৭৪০ রান। সেখানে আছে দুইটা সেঞ্চুরি আর তিনটা হাফ সেঞ্চুরি। ব্যাটিং গড় ৭৪! কে বলবে, তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছে কেবল ২০২৩ সালে!
টি-টোয়েন্টিতেও জয়সওয়াল ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। সাত ম্যাচে তাঁর রান ২৪৩। তিনটা হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন। ব্যাটিং গড় ৪৭.১৬। স্ট্রাইক রেট আকাশ চুম্বি – ১৭৫.৭৭! মানে ক্রিকেটের দুটি ভিন্ন ফরম্যাটের ভিন্ন দুটি ব্যাটিং ঘরানায় ব্যাটিংয়ে খুবই সাবলীল এই জয়সওয়াল। বলা যায়, ভারতের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সঠিক হাতেই আছে।
নিন্দুকেরা চাইলে বলতেই পারেন, এখনও সেই অর্থে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোয়ালিটি বোলিংয়ের মোকাবেলা করেননি যশস্বী। কথাটা পুরোপুরি ভুল নয়, আবার অকাট সত্যও নয়। কারণ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি, আর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিপক্ষে দু’টি করে টেস্ট খেলেছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৮৯। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট করেছেন ৮৮.৬৬ গড়ে।

তবে, এখনও ঠিক বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খেলার সুযোগ মেলেনি জয়সওয়ালের। ফলে, অস্ট্রেলিয়া ও ইংলিশ কন্ডিশনের পরীক্ষায় আরও পরিপক্ক হওয়ার সুযোগ রয়েছে জয়সওয়ালের। তখনই হয়তো ব্যাটারশিপের পূর্ণতা পাবেন জয়সওয়াল।










