দুর্ধর্ষ, ভয়ংকর, জোফরা আর্চারের নিজস্ব ত্রাসের রাজত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা রীতিমত কোণঠাসা। ব্যাটারদের প্রলয়লীলার উপর দাঁড়িয়ে আর্চার করেছেন তাণ্ডবনৃত্য। ৭২ রানে অলআউট প্রোটিয়ারা। যার সিংহভাগ কৃতীত্ব ওই দীর্ঘকায় ভয়ংকর ইংরেজ পেসারের।
ইংল্যান্ড নিজেদের শক্তিমত্তা জাহির করতে চাইল প্রবলভাবে। নিজেদের ব্যাটিংয়ের সত্যিকারের আগ্রাসন প্রদর্শনে নেমে পড়লেন জো রুট আর জ্যাকব বেথল। দুইজনেই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। জেমি স্মিথ আর জশ বাটলারের খানিকটা টি-টোয়েন্টি ধাঁচের ফিফটিতে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ৪১৪ রান।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি পঞ্চম সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এমন ম্যাচে প্রোটিয়া ব্যাটাররা নিশ্চয়ই মনে মনে ভেবেছিলেন ‘ইশ আজ যদি এবি ডি ভিলিয়ার্স থাকতেন।’ কিন্তু তাদেরকে খুব বেশি সময়ে সেই ভাবনার সাগরে ডুবে থাকতে দিলেন না জোফরা আর্চার। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তিনি প্রোটিয়াদের ব্যাটিং দূর্গে হেনেছেন আঘাত।

এইডেন মার্করাম কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাজঘরের পথ ধরেছেন। ব্যাটের আলতো স্পর্শ পেয়ে বল চলে গেছে বাটলারের দস্তানায়।দক্ষিণ আফ্রিকা জানত এই লক্ষ্য টপকানো বড্ড কঠিন। কিন্তু কঠিন এই গিরিপথে একের পর এক বরফের গোলা ছুড়েছেন আর্চার। অবরুদ্ধ করে দিতে চেয়েছেন প্রোটিয়াদের সামনে যাওয়ার পথ। সেই যাত্রায় নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারও শিকারির তালিকায় উঠল জোফরা আর্চারের নাম।
এদফা দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ওপেনার রায়ান রিকেলটন পরিণত হলেন আর্চারের শিকারে। ওই একই পরিণতি, ব্যাটের স্পর্শ নিয়ে বল জমা হল বাটলারের দস্তানায়। দারুন লাইনলেন্থে এদিন আর্চার দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। বলের মুভমেন্টে পপিং ক্রিজ পরিণত হয়েছিল প্রোটিয়াদের উন্মুক্ত কারাগারে।
এমনকি ইনফর্ম ম্যাথু ব্রিজকিও ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলেন এদিন। দূর্দান্ত লাইন আর লেন্থ, সেই সাথে সুইং- আর্চার যেন নিজ হাতের ধনুক থেকে এক একটি বিষাক্ত তীর ছুড়ে মেরেছেন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ব্রিজকিও আউট হলেন। তাতে করে তার অনবদ্য রানের ধারায় ব্যাঘাত ঘটে অবশেষে। অভিষেকের পর থেকে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন ব্রিজকি। এবারই প্রথম তিনি পঞ্চাশের নিচে আউট হলেন ওয়ানডেতে।

এরপর ট্রিস্টান স্টাবসের উইকেটও গিয়েছে আর্চারের পকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুর পাঁচ ব্যাটারের চার উইকেটই তুলে নিয়েছেন আর্চার, তাও আবার শুরুর দশ ওভারের মধ্যেই। এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি কি আর বাকি থাকে! এদিন পুরো কোটা বোলিংও করেননি আর্চার। নয় ওভারের স্পেলে তার খরচা মাত্র ১৮ রান। এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ে আর্চার যেন আরও একটিবার মনে করিয়ে দিলেন নিজের ক্লাস।











