বাবর আজম আবারও ফিরতে যাচ্ছেন লাল বলের ক্রিকেটে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে একটি ইনটেনসিভ টেস্ট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ডেকেছে। এই ক্যাম্পের লক্ষ্য আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা এবং ফিটনেস ও টেকনিক্যাল স্কিল উন্নয়ন করা।
৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ক্যাম্পিং চলমান থাকবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের হোম টেস্ট সিরিজের আগে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পিসিবি নিশ্চিত করেছে যে আসন্ন টেস্ট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের জন্য মোট ১১ জন খেলোয়াড়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। যাদের নেতৃত্ব দেবেন বাবর আজম। তিনি এই ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেবেন অন্তর্বর্তীকালীন লাল বলের প্রধান কোচ আজহার মেহমুদের অধীনে। কোচ মাহমুদের সঙ্গে থাকবেন ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির অভিজ্ঞ কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফরাও। রয়েছেন আব্দুল্লাহ শফিক, আলী রাজা, আজান আওয়েস, কামরান গুলাম, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ হুরায়রা, মোহাম্মদ সালমান, রোহেল নাজির, সাজিদ খান, শামিল হুসাইন।

এই ক্যাম্পে অনুপস্থিত থাকবেন দুইজন বড় তারকা। পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং নাসিম শাহ, যারা বর্তমানে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে তাদের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে ব্যস্ত আছেন।
পিসিবি এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে এই ক্যাম্পটি তৈরি করা হয়েছে, লাল বলের আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া মৌসুমের আগে ফিটনেস মূল্যায়ন করাও জরুরি। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের কেউ চলমান হানিফ মোহাম্মদ ট্রফির অংশগ্রহণকারী নন। ২০ দিনের এই ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেবেন এবং পরিস্থিতি-ভিত্তিক ম্যাচেও অংশ নেবেন।’
বাবর আজম শেষবার টেস্ট খেলেছেন এ বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, মুলতানে। সেই ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ১ ও ৩১ রান। পাকিস্তান হারে ১২০ রানে, যা ছিল একটি হতাশাজনক পরাজয়। ২০১৬ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে বাবর আজম পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৫৯ টি টেস্ট ম্যাচ। এই সময়ে তিনি করেছেন ৪২৩৫ রান, যেখানে তার গড় ৪২-এর বেশি।

সাম্প্রতিক সময়টা বাবরের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হারানো, ওয়ানডে ও টেস্টে ধারাবাহিকতার ঘাটতি। সব মিলিয়ে তিনি যেন পাকিস্তান দলে একটু কোণঠাসা হয়ে পরেছেন। সবচেয়ে আলোচিত ব্যাপার হলো, বাবর আজমকে এশিয়া কাপের জন্য বিবেচনাই করা হয়নি, যা শুরু হচ্ছে ঠিক সেই ৯ সেপ্টেম্বর। এই ‘অবহেলা’ তাঁর জন্য এক প্রকার বার্তা। বাবর নিজেও জানেন, জবাব দেওয়ার জন্য এটাই তাঁর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।









