লাতিন ম্যাজিক ফিরে এসেছে

বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু ইউরোপের আধিপত্য? ২০২৬ বিশ্বকাপ অন্তত এখন পর্যন্ত ভিন্ন গল্পই বলছে।

বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু ইউরোপের আধিপত্য? ২০২৬ বিশ্বকাপ অন্তত এখন পর্যন্ত ভিন্ন গল্পই বলছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই নতুন দিনের গান গাইতে শুরু করেছে লাতিন ফুটবল।

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া—একের পর এক লাতিন আমেরিকার দল ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। অস্ট্রিয়াকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল, জার্মানিকে হারিয়েছে ইকুয়েডর, তুরস্ককে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। শুধু তাই নয়, রাউন্ড অব ৩২-এ আবারও টাইব্রেকারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করেছে সেই প্যারাগুয়েই। অন্যদিকে পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও হারেনি কলম্বিয়া।

এটা শুধু কয়েকটি ম্যাচের ফল নয়, বরং একটি শক্ত বার্তা। বহুদিন ধরেই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করলেও জাতীয় দলের মঞ্চে লাতিন আমেরিকার সেই পুরোনো লড়াকু চরিত্র আবারও ফিরে এসেছে। গতি, কারিগরি দক্ষতা, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতায় তারা আবারও বিশ্বকাপকে রাঙিয়ে তুলছে।

আর শুধু আপসেট বা লড়াই নয়—শিরোপার দৌড়েও বড় শক্তি হিসেবে আছে লাতিন আমেরিকা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে যেমন এগিয়ে আছে, তেমনি ব্রাজিলও ট্রফির অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে টিকে আছে। ইউরোপের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় লড়াইটা গড়ে তুলছে এই দুই ফুটবল পরাশক্তি।

এই লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি শুধু মাঠেই নয়, ছড়িয়ে আছে মাঠের বাইরেও। ফিফার হিসাব বলছে, এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ভেঙে গেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। আর এই উন্মাদনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার সমর্থকেরা। টিকিট কেনার শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় আছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও কলম্বিয়া—যা প্রমাণ করে হাজার হাজার মাইল দূর থেকেও তারা নিজেদের দলের পেছনে কতটা আবেগ নিয়ে ছুটে আসছে।

টেলিভিশনের পর্দাতেও একই চিত্র। ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচ দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ফুটবল সম্প্রচারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে—প্রায় তিন কোটি দর্শক চোখ রেখেছিলেন সেই ম্যাচে। সব মিলিয়ে গ্যালারি থেকে টিভি স্ক্রিন—সব জায়গায় এখন একটাই বার্তা। দক্ষিণ আমেরিকা এখন ইউরোপকে টপকে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য দেখাচ্ছে।

Share via
Copy link