জাতীয় নির্বাচক প্যানেলে বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্যানেলের দুটি শূন্য পদে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল রোববার। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন এই মাসের শেষেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। বিদায়ের আগে পাকিস্তান সিরিজের জন্য দলই হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ নির্বাচিত স্কোয়াড।
সেই দলে জায়গা পেয়েছেন আফিফ হোসেন এবং লিটন দাস—যাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে দুজনের কারওই ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন নজরকাড়া সাফল্য নেই। তার ওপর দু’জনকেই মিডল অর্ডারে পরিবর্তিত ভূমিকায় খেলতে হবে।
আফিফ হোসেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর জাতীয় দলের কোনো সংস্করণেই খেলেননি। তবে বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে সাউথ জোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় রেখেই তাঁকে আবার দলে ফেরানো হয়েছে বলে জানান নির্বাচক প্যানেলের সদস্য লিপু।

তাঁর ভাষ্য, মিডল অর্ডারে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হলেও কেউই নিজেদের জায়গা স্থায়ী করতে পারেননি। সেই প্রেক্ষাপটেই আফিফকে ফের ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, টেস্ট ও টি–টোয়েন্টিতে নিয়মিত খেললেও ওয়ানডে দলে দীর্ঘদিন ধরেই ছন্দহীন লিটন দাস। সবশেষ আট ওয়ানডে ইনিংসে তিনি দুই অঙ্ক ছুঁতেও পারেননি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিএল অলস্টার দলের বিপক্ষে অবশ্য দুজনই ব্যাট হাতে খুব বড় কিছু করতে পারেননি। আফিফ ২৯ বলে ২৯ রান করে রান–আউট হন। অন্যদিকে, মিডল অর্ডারে পাঁচ নম্বরে নেমে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ ছিলেন লিটন। তিনি ৩৮ বলে ৪৪ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা।

নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা বোঝা যাবে পাকিস্তান সিরিজেই। তবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন বিদায়ের আগে দল নির্বাচনে যে আলোচনার জন্ম দিয়ে গেলেন, তা এখনই স্পষ্ট। পাকিস্তান সিরিজে নি:সন্দেহে তাই আঁতসী কাচের নিচেই থাকবেন লিটন-আফিফ।










