ম্যাকায়ের অচেনা উইকেটে ইতিহাস গড়ার মহারণ!

১৮৮৭ সালের পর ঘরের মাঠে আর কখনো হোয়াইটওয়াশড হয়নি অস্ট্রেলিয়া। ১৩৯ বছরের সেই অক্ষত রেকর্ডটাই এখন ঝুলছে ম্যাকের এক টুকরো ঘাসের ওপর, যে মাঠ কোনোদিন টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পায়নি। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা কুইন্সল্যান্ডের চতুর্থ ভেন্যু হিসেবে টেস্ট আতিথ্য দিতে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ইতিহাস বলতে তার ঝুলিতে আছে স্রেফ দুটো ওয়ানডে আর হাতেগোনা কিছু ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ—অভিজ্ঞতার এই খরাটাই ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দলের জন্যই।

১৮৮৭ সালের পর ঘরের মাঠে আর কখনো হোয়াইটওয়াশ হয়নি অস্ট্রেলিয়া। ১৩৯ বছরের সেই অক্ষত রেকর্ডটাই এখন ঝুলছে ম্যাকের এক টুকরো ঘাসের ওপর, যে মাঠ কোনোদিন টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পায়নি। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা কুইন্সল্যান্ডের চতুর্থ ভেন্যু হিসেবে টেস্ট আতিথ্য দিতে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ইতিহাস বলতে তার ঝুলিতে আছে স্রেফ দুটো ওয়ানডে আর হাতেগোনা কিছু ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ—অভিজ্ঞতার এই খরাটাই ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দলের জন্যই।

তবু যেটুকু আঁচ করা যাচ্ছে, তাতে ডারউইনের সেই চেনা চিত্রনাট্যই আবার মঞ্চস্থ হতে পারে ম্যাকায়তেও। শুরুতে বাউন্স আর মুভমেন্টে পেসারদের রাজত্ব, তারপর উইকেট ধীরে ধীরে বশ মানবে ব্যাটসম্যানদের কাছে, আর শেষদিকে বল ঘুরতে শুরু করলে খেলা গড়াবে স্পিনারদের হাতে।

ফার্স্ট ক্লাস রেকর্ড বলছে, এই মাঠে প্রথম ইনিংসে বড় রান ওঠা কঠিন—১৯০, ২০০, ২২০ ছাড়িয়ে যাওয়াটাই ছিল বিরল ঘটনা। তাই টস জিতলে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই স্বাভাবিক পথ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য, আবার হারলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই—কারণ তৃতীয় ইনিংস থেকেই সহজ হতে শুরু করে ব্যাটিং।

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে অবশ্য এই মাঠ নিয়ে পুরোপুরি অচেনা লাগার কথা নয়। জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় দলে ফেরা ম্যাথু র‌্যানশোর সঙ্গে ম্যাকাঢের সম্পর্কটা রীতিমতো মধুর—দুই ফার্স্ট ক্লাস ইনিংসে এখানে করেছেন ১৭০ আর ১৩৫ রান, আর সেই রেকর্ডই যেন তাঁকে ফিরিয়ে আনার পেছনে বাড়তি এক যুক্তি জুগিয়েছে নির্বাচকদের। মার্নাস লাবুশেনের ওপর শেষবারের মতো ভরসা রেখে সেই মাঠেই টিকে থাকার লড়াইয়ে নামছে স্বাগতিকরা।

উল্টো দিকে বাংলাদেশের গল্পটা লেখা হচ্ছে ভিন্ন কালিতে। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়া দলটা এখন তাকিয়ে আছে আরও বড় কিছুর দিকে। তিন পেসার-দুই স্পিনারের যে কম্বিনেশন নয় উইকেটের জয় এনে দিয়েছিল, সেটা বদলানোর কোনো কারণ নেই—বদল এলে সেটা হতে পারে পেস আক্রমণেই, এবাদত কিংবা তাসকিনের জায়গায় ফিট হয়ে ফেরা শরিফুলের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ব্যাটিংয়ে শুরুর কঠিন সময়টা ফুরফুরে মেজাজে পার করে দেওয়াই হবে তানজিদ-সাদমানদের কাজ, তারপর উইকেট সহজ হলে রানের ভার নেবেন শান্ত-মুশফিকরা।

বছরের পর বছর ধরে নানা অজুহাতে সিরিজ বাতিল হওয়া, সফর এড়িয়ে যাওয়া—এসব আক্ষেপের জবাব তো ম্যাচ জিতেই কিছুটা দেওয়া হয়ে গেছে ডারউইনে। কিন্তু আসল পরীক্ষাটা এখনো বাকি—এই সিরিজটা জিততে পারলেই বিশ্ব ক্রিকেটকে বোঝানো যাবে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ আর সেই পুরোনো আন্ডারডগ নেই। প্রতিপক্ষের মাটিতে গিয়ে চোখে চোখ রেখে সিরিজ জেতাটাও যে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে এই দল, ম্যাকের পাঁচটা দিন সেই বার্তাটাই আরেকবার দিতে পারে বিশ্বকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link