মারুফা যেন বাংলাদেশের স্টার্ক!

মারুফা আক্তার যেন বাংলাদেশের মিচেল স্টার্ক। ভয়ানক ইনসুইংয়ে যিনি উপড়ে ফেলতে পারেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারের আগলে রাখা স্টাম্প। এতটাই বিপজ্জনক সে সুইং যার কোনো প্রতিউত্তর নেই ব্যাটারের কাছে।

মারুফা আক্তার যেন বাংলাদেশের মিচেল স্টার্ক। ভয়ানক ইনসুইংয়ে যিনি উপড়ে ফেলতে পারেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারের আগলে রাখা স্টাম্প। এতটাই বিপজ্জনক সে সুইং যার কোনো প্রতিউত্তর নেই ব্যাটারের কাছে।

আইডল মানেন স্টার্ককে, এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘মিচেল স্টার্ক আমার পছন্দের একজন বোলার। তাঁর সুইং আমার অনেক পছন্দের, এটি আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে, বিশ্বাস করায় মারুফা তুই পারবি।’

মারুফা পেরেছেনও, সেই বিশ্বাসের জেরে আজ বাংলাদেশের বোলিং বিস্ময় হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। বিশ্বদরবারে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই মারুফা যেন ঝলসে উঠলেন নতুন আলোয়। আগে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে ভালো শুরুর স্বপ্ন দেখতেই দিলেন না এই ডানহাতি পেসার। ম্যাচের একেবারে প্রথম ওভারেই হাতে থাকা ইনসুইং নামক মারণাস্ত্র দিয়ে ভেঙে দেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। অফস্টাম্পের অনেক বাইরে পিচ করা ডেলিভারি ভেতরে ঢুকে উড়িয়ে দেয় স্টাম্প—দৃশ্যটা যেন একেবারে নিখুঁত সিনেম্যাটিক মুহূর্ত!

শুধু উইকেটই নয়, প্রতিটি বলেই তিনি প্রতিপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন। সাত ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩১ রান খরচ করে নিয়েছেন দুই উইকেট। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁর প্রভাব ছিল অমূল্য। নতুন বলে দারুণ ছন্দে বোলিং করে একেবারে শুরুতেই ম্যাচের লাগাম টেনে নিয়েছিলেন তিনি।

মারুফার আসল শক্তি এখানেই—নতুন বল হাতে ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন একাই। তাঁর ইনসুইং এতটা নিখুঁত, এতটাই ধারালো, যে ব্যাটাররা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠেছেন মারুফা আক্তার। বয়স খুব বেশি না হলেও তাঁর আত্মবিশ্বাস, আগ্রাসী মনোভাব আর বল হাতে বিধ্বংসী ভঙ্গিই বলে দিচ্ছে—আগামী দিনের পথচলায় তিনিই হতে যাচ্ছেন বড় নাম।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link