মারুফা-নাহিদাদের বোলিং তোপে অল্পতেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কলম্বোর প্রেমাদাসায় এরপর শুরু হয় মারুফার সুইংয়ের মায়াজালের আঘাত।

স্রেফ ১২৯ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নারী দলের দূর্দান্ত শুরু। মারুফ আক্তারের নতুন বলের সুইংয়ে নড়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং ভীত। এরপর নাহিদা আক্তার, স্বর্ণা আক্তারদের বোলিংয়ের সামানে আর দাড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের মেয়েরা।

নারী বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কলম্বোর প্রেমাদাসায় এরপর শুরু হয় মারুফার সুইংয়ের মায়াজালের আঘাত। সেই আঘাতে পাকিস্তান দুই রানের মাথায় হারায় দুইটি উইকেট।

টপ অর্ডারের বেহাল দশা ভয় ধরিয়ে দেয় বাকিদের মনেও। এরপর ছোট ছোট জুটি গড়ে পাকিস্তান নিজেদের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ৪৪ থেকে ৪৭, এই তিন রানের মাথায় তারা আরও দুইটি উইকেট হারায়। নাহিদা আক্তারের জোড়া আঘাতে, পাক ওপেনার মুনীবা আলির প্রতিরোধ ভাঙে।

বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা সেখানেই স্তিমিত হয়ে যায় পাকিস্তানের। বাংলাদেশের বোলাররা আর কোন প্রকার সুযোগ সেই অর্থে দিতে চাননি পাকিস্তানি ব্যাটারদের। বাংলাদেশের পক্ষে মোট ছয়জন বোলার হাত ঘুরিয়েছেন। কেউই ফেরেননি খালি হাতে। প্রত্যেকের পকেটে গিয়েছে একটি করে উইকেট।

এর মধ্যে মারুফা, নাহিদার দুইটি করে উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়াও স্বর্ণার পকেটে গিয়েছে তিনটি উইকেট। তাতে করে ৩৮ ওভার ৩ বলেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। বোলারদের দূর্দান্ত পারফরমেন্সকে ব্যাটারদের পরিণত করতে হবে জয়ে। দায়িত্বটা জ্যোতিদের নিতেই হচ্ছে।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link