পেস স্বর্গের স্পিন গ্রেট

ভয়ের কারণ হতে থাকা স্টিভেন স্মিথকে চাপে ফেলে সাজঘরে ফেরানো, চতুর্থ দিন সকালে দুই ম্যাজিকাল ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলা, এরপর নাথান লিঁওকে ফিরিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারে ১৫ বারের মত পাঁচ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া - এই সবই মিরাজের অর্জনের মুকুটে একেকটা পালক যোগ করেছে।

মেহেদী হাসান মিরাজ এমন এক চরিত্র যাকে চাইলেই এক চরিত্র যাকে চাইলেই একটু খোঁচা মারা যায়। চাইলেই তাঁকে একটু বাজিয়ে দেখা যায়। চাইলেই তাঁকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল করা যায়, দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।

মিরাজ বরাবরই সমালোচনার সহজ এক টার্গেট। অথচ, সেই মিরাজের ঝুলিতেই আছে ঘাম আর রক্ত মাখা ৫৮ টেস্ট ম্যাচে ২২৪ উইকেটের কীর্তি। নরম স্বভাবের মিরাজ প্রতিপক্ষের সামনে কখনওই সহজ কোনো লক্ষ্যবস্তু নন।

মিরাজের চারিত্রিক সেই কাঠিন্য এবার বৈশ্বিক ক্রিকেটের শীর্ষ মঞ্চে দেখা গেল আরেকবার। পরাক্রমশালী, প্রতাপশালী কিংবা আর যত বিশেষণ যোগ করা হয় যে দলটার নামের সাথে সেই অস্ট্রেলিয়া দল এবার বুঝে গেল এই মিরাজ কি জিনিস।

আগের দিন স্টিভেন স্মিথকে ফিরিয়ে দিয়ে অধিনায়ক শান্তকে বলছিলেন, ‘শান্ত একটা সিলি রাখ, আজকে ভাল রিদম পাচ্ছি।’ আর রিদমে থাকা মিরাজকে আটকাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া দল।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশি স্পিনারের অন্যতম সেরা বোলিং স্পেলটাই করলেন বাংলাদেশের মিরাজ।

২০১৯ সালে শেষ কোনো সফরকারী স্পিনার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেন। তিনি ভারতের কুলদ্বীপ যাদব। মিরাজের আগে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট সর্বশেষ নিয়েছিলেন রঙ্গনা হেরাথ, ১৪ বছর আগে। তবে, এবার সবার পারফরম্যান্সকেই ছাড়িয়ে গেলেন মিরাজ।

ভয়ের কারণ হতে থাকা স্টিভেন স্মিথকে চাপে ফেলে সাজঘরে ফেরানো, চতুর্থ দিন সকালে দুই ম্যাজিকাল ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলা, এরপর নাথান লিঁওকে ফিরিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারে ১৫ বারের মত পাঁচ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া – এই সবই মিরাজের অর্জনের মুকুটে একেকটা পালক যোগ করেছে।

ডারউইনের এই ম্যাচ লেখা হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে মিরাজের নাম। আজ থেকে হাজার বছর পরও যখন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ইতিহাস লেখা হবে, তখন একটা ফুটনোট থাকবে – পেসারদের স্বর্গরাজ্যে একজন স্পিনার এনেছিলেন বিপ্লব, অসম এক লড়াইয়ে আন্ডারডগ এক দলকে স্পিন হাতে এনে দিয়েছিলেন জয়, অস্ট্রেলিয়ান দম্ভ চূর্ণ করা সেই বাংলাদেশির নাম মেহেদী হাসান মিরাজ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link