‘স্পেশাল’ জার্নির সূচনা লিখল বাংলাদেশ!

টেস্টে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ২০২২-এর পর থেকে। মুমিনুল হকের হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়, কাদা-মাটি লেগে থাকা সাদা পোশাকটা একটু একটু করে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে, দূর হতে থাকে অপারগতার ছাপ এঁটে দেওয়া দাগগুলো।

‘একটা সময় পেস বোলাররা টেস্ট খেলতে চাইতো না, পর্যাপ্ত ম্যাচ না থাকায় আগ্রহ পেত না। এখন তারা খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, বিশ্বসেরা হতে চায়। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় জয়, আমরা বিশ্বাস করি আরও এগিয়ে যাবো, ভবিষ্যতে স্পেশাল কিছু করব।’ নাজমুল হোসেন পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে এগুলোই বলছিলাম অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে। তবে কি সেই স্পেশাল জার্নির শুরুটা ডারউইনে দাঁড়িয়ে করল বাংলাদেশ?

টেস্ট ক্রিকেট, বছর পাঁচেক আগেও অনেকে নাক সিঁটকাতো। বাংলাদেশ টেস্ট বোঝেই না, খেলবে কি? ঘরের মাঠে নিজেদের মর্জি মতো পিচ বানিয়ে বড় দলকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বটে। তবে দামি খাবার খেয়ে কখনও কখনও তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যায় না। আদতে টেস্ট ক্রিকেটটা বাংলাদেশের জন্য না।

সেই ধারণা এখন নিশ্চয় পাল্টে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে চার দিনে টেস্ট জয় করা, তাও বিশাল ব্যবধানে। এটাকে নিশ্চয় কোনোভাবে হয়ে গেছে, বোলার সুযোগ নেই। এমন জয়কে ফ্লুক বলা অপরাধ। ধারাবাহিক চেষ্টার পর যে ফলটা হাতে আসে, এটাই সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।

টেস্টে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ২০২২-এর পর থেকে। মুমিনুল হকের হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়, কাদা-মাটি লেগে থাকা সাদা পোশাকটা একটু একটু করে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে, দূর হতে থাকে অপারগতার ছাপ এঁটে দেওয়া দাগগুলো।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজয়উল্লাসটাই মূলত বাংলাদেশের স্টেটমেন্ট ছিল। আমরা পারি, একদিন পারব। মাঝের সময়টাতে পাকিস্তানকে হারানো সেই বিশ্বাসটাকে পোক্ত করেছিল। এবার তো অবিশ্বাস্য এক কীর্তি করে বসল। অস্ট্রেলিয়া দলটার অজেয় দুর্গ জয় করে আসলো পুচকে বাংলাদেশ। অবশ্য এই পুচকে বিশেষণটা এখন অতীত। এই বাংলাদেশ জিততে শিখে গেছে।

মুমিনুলের অসমাপ্ত দায়িত্ব নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। ছেলেটা আরও বেশি ক্ষুধা নিয়ে বসে আছে। প্রতিপক্ষ কে, তাঁকে দেখে ভয় পাওয়া চেহারা বাংলাদেশের মুখ থেকে উধাও হয়েছে। শান্ত শিখিয়েছেন, খেলাটাই আসল, এখানে যে কেউ জিততে পারে, চাইলে আমরাও।

ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো পরাক্রমশালী কোনো দল না হয়েও বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে জিতল। কলারটা উঁচু করে, শিরদাঁড়া শক্ত করে জানিয়ে দিল, আমরা এখন পারি, বিশ্বজয় করলেও অবাক হয়ো না। আসলেই, এই দলটা যদি বিশ্বজয় করে বসে অবাক হবেন কি? এখনও কি দুঃসাহসিক স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেবেন? হয়তো অনেকেই দেবেন, তবে শান্তর যেহেতু বিশ্বাস আছে, এই দলটা সত্যিই একদিন বিশ্বজয় করবে। সূচনা তো হয়েই গেছে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link