স্রেফ মুশফিক হটাও আন্দোলন হওয়াটাই বাকি

এবার কেবল মুশফিক হটাও আন্দোলন হওয়াটাই বাকি! স্রেফ নামের ভারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেন মুশফিকুর রহিম। এলেন, খেললেন, অবিবেচকের মত আউট হয়ে ফিরেও গেলেন। বাইশ গজ ছাড়লেন, এখন ক্রিকেটটাও ছেড়েই দেওয়া উচিৎ।

এবার কেবল মুশফিক হটাও আন্দোলন হওয়াটাই বাকি! স্রেফ নামের ভারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেন মুশফিকুর রহিম। এলেন, খেললেন, অবিবেচকের মত আউট হয়ে ফিরেও গেলেন। বাইশ গজ ছাড়লেন, এখন ক্রিকেটটাও ছেড়েই দেওয়া উচিৎ।

শিরদাঁড়াহীন টিম ম্যানেজমেন্টের সাহসে কুলায়নি অফফর্মের থাকা মুশফিককে বাদ রাখার। মুশফিকুর রহিমের অতীতের সমস্ত অর্জন মাথায় রেখেই অন্তত এই কথা অনায়াসে বলে দেওয়া যায়। নিজের সম্মান বাঁচাতে তাঁর নিজেরই এখন সরে যাওয়া উচিৎ।

একজন ব্যাটার যার শেষ দশ ওয়ানডে ইনিংস একটি হাফসেঞ্চুরি। এমনকি টেস্টে খেলা শেষ দশ ইনিংসেও নেই হাফ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মুশফিক খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। সেখানে ১৪টা ম্যাচ খেলেও একটা অর্ধশতক নেই তার ব্যাটে।

সময়ের হিসেবটা কষে নেওয়া যাক। সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়ে তিনি ৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের সেই ইনিংসটিতে ১৯১ রান করেছিলেন মুশফিক। সে ঘটনা আজ থেকে ছয় মাস আগের ঘটনা। দিনের হিসেবে ১৮৭ দিন আগে বড় রান করতে পেরেছিলেন মুশফিক।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দূরবস্থা ভয়াবহ। শেষ হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন গেল বছরের মার্চে। ৭৩ রানের সেই ইনিংসটি খেলেছিলেন ৩৪৮ দিন আগে। এত দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যাটে নেই কোন বড় রান। সেই ব্যাটার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তাকে একাদশে রাখার পেছনের যুক্তি কি হতে পারে?

বিগত প্রায় বিশ বছরে তার অবদান? মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটার। সে আলাপ ভিন্ন, সে আলাপ অনর্থক। সাম্প্রতিক সময়ে অফফর্মে থাকা একজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়াই তো সঠিক সংস্কৃতি।

কিন্তু না, সম্ভবত শেষ টুর্নামেন্ট বলেই মুশফিকুর রহিমকে আগলে রাখতে হবে। এমন নিদারুণ বাজের ফর্মের পরও তাকে ব্যাটিং অর্ডারের গুরুদায়িত্ব দিতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট যেন উটপাখি, মাটিতে মুখ গুজে রাখাই তাদের কাজ। তবুও তাদের দায় খানিক কম বটে। তারা অভিজ্ঞতার মূল্য দিতে চেয়েছেন।

মুশফিকের এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার মূল্য তিনি নিজের দিতে পেরেছেন কি? সদ্যই আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান তাওহীদ হৃদয় বিদায় নিয়েছেন। তখনও খেলার অনেকটা সময় বাকি। থিতু হওয়ার যথাযথ সময়ও ছিল মুশফিকের হাতে। কিন্তু তিনি স্লগ সুইপ করলেন। ডিপ মিডউইকেটে কাঁটা পড়লেন তিনি।

একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ম্যাচের পরিস্থিতি ভাল পড়তে পারার কথা। কিন্তু মুশফিকের ওই শটই বলে দেয় অভিজ্ঞতা মুশফিকের ক্ষেত্রে শুধু মাত্রই একটা শব্দ। তাইতো কমেন্ট্রি বক্স থেকে ইয়ান স্মিথও বিস্ময় ঝেড়ে বলে বসেন, ‘এত অভিজ্ঞতা নিয়ে এমন শট!’

বিদায় বেলাকে কলুষিত করবার একটা ভীষণ বাজে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। সেই ধারা থেকে মুশফিকুর রহিমও বের হতে চাননা। তিনিও লেবু কচলিয়ে তেঁতো বানানো অবধি অপেক্ষা করতে রাজি। যতদিন অবধি না শাহবাগে মুশফিক হটাও আন্দোলন হচ্ছে, ততদিন অনড় থাকবেন তিনি। অথর্ব টিম ম্যানেজমেন্টও নামের ভারে থাকবে তটস্থ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link