১৪০ কিলোমিটার গতির বল দেখলেই পাকিস্তানি ব্যাটাররা কাঁপতে শুরু করে। বাংলাদেশের বিপক্ষে পর্যদুস্ত হওয়ার পর পাকিস্তানি ব্যাটারদের নিয়ে এমন সূচালো সমালোচনার তীর ছুঁড়েছেন মোহাম্মদ আমির। অবশ্য খুব একটা ভুল তিনি বলেননি। মাঠে নাহিদ রানার গতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটাররা, নাহিদ সেটার ফায়দা তুলেছেন কড়ায় গণ্ডায়।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সবকিছু। ৪১ রান পর্যন্ত সব ঠিকঠাক যাচ্ছিল। নয় ওভারে ৩৫ রান যখন স্কোরকার্ডে, তখন বল হাতে নাহিদের আগমন। এসেই তুলে নেন শাহিবজাদা ফারহানকে। গতির সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি।
এরপর একে একে ধ্বংসযজ্ঞ চালান নাহিদ রানা। আনকোরা মাজ সাদাকাত, শামিল হুসেনদের দিশেহারা করে দেন। বিশেষ করে এই দুই নবাগত ব্যাটারের ক্ষেত্রে বিষয়টা ছিল আরও স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেলেও নাহিদের গতির সামনে তাঁদের টেকনিক যেন একেবারেই নাজেহাল হয়ে পড়ে। শর্ট বলে অস্বস্তি, অফ স্টাম্পের বাইরে দ্বিধা, সব মিলিয়ে তরুণ দুই ব্যাটারের দুর্বলতা যেন প্রকাশ্যে চলে আসে।

এই জায়গাটাকেই সামনে এনে কড়া মন্তব্য করেন আমির। তাঁর মতে, পাকিস্তানের ব্যাটারদের টেকনিক এখনো আধুনিক গতির বোলিংয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে ধারাবাহিক গতি ধরে রাখতে পারে এমন বোলারদের বিপক্ষে পাকিস্তানি ব্যাটাররা অনেক সময় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
তবে আমিরের মন্তব্যের আরেকটি দিকও রয়েছে। সেটি হচ্ছে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা। এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান এখন ধারাবাহিকভাবে হোঁচট খাচ্ছে। বড় দল তো বটেই, এখন তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছেও হারতে হচ্ছে তাঁদের। বাংলাদেশের বিপক্ষেও পরাজয় যেন সেই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে আমিরের মন্তব্য—‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত আমরা অ্যাসোসিয়েট দল না হয়ে যাই। ৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল হয় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।’

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা যেন পাকিস্তানের জন্য কেবল হার-জিতের লড়াই নয়, বরং নিজেদের দুর্বলতা বুঝে নেওয়ার এক আয়নাও হয়ে উঠেছে। আর সেই আয়নায় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে দেখা যাচ্ছে এক তরুণ বাংলাদেশি পেসারের প্রতিচ্ছবি, যিনি হাত থেকে বল ছুড়তে পারেন ১৪০ কিলোমিটার গতির ওপরে।
গতি, আগ্রাসন আর আত্মবিশ্বাস, এই তিনের মিশেলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনের সামনে যেন এক নতুন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছেন তিনি। আর আমিরের মন্তব্য সেই দুঃস্বপ্নকেই আরও জোরালো করে তুলেছে। পাকিস্তানি ব্যাটাররা সত্যিই কি ১৪০ কিলোমিটার গতির বল দেখলেই কাঁপেন? নাকি এটা সাময়িক দুর্বলতা?











