নাহিদ না হোক কৌশিক

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানা ছিলেন দুর্ধর্ষ। ক্লান্তি যেন এদিন ছুঁয়ে যেতে পারেনি তাকে। একটানা বোলিং করেছেন। তবে তার মত এক্সপ্রেস গতির বোলারের জন্য যা ভীষণ হুমকির কারণ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানা ছিলেন দুর্ধর্ষ। গতিময় বোলিংয়ে তিনি ছিলেন চোখের শান্তি, অন্তরের প্রশান্তি। ক্লান্তি যেন এদিন ছুঁয়ে যেতে পারেনি তাকে। একটানা বোলিং করেছেন। তবে তার মত এক্সপ্রেস গতির বোলারের জন্য যা ভীষণ হুমকির কারণ।

একজন ফাস্ট বোলার সাধারণত প্রথম স্পেলে পাঁচ-ছয় ওভারের স্পেল করেন। পরবর্তীতে দুই স্পেলে দুই-তিন ওভার করে কোটা শেষ করেন। নাহিদ রানার মত গতির বোলাররা প্রথম স্পেলে চার-পাঁচ ওভার বোলিং করেন। পরবর্তীতে আরো দুই-তিনটি শর্ট স্পেলে বোলিং কোটা শেষ করেন। ফলে, তারা পুরো ইনিংস জুড়ে গতি ধরে রাখতে পারেন, ভয় তৈরি করতে পারেন। প্রতিটা স্পেল শেষে রিকভার করার জন্য নূন্যতম সময় পান।

কিন্তু নাহিদ এক্ষেত্রে এদিন ছিলেন ব্যতিক্রম। এদিন নাহিদ রানা দশম ওভারে বোলিং আক্রমণে আসেন এবং ২২ ওভার পর্যন্ত টানা সাত ওভারের স্পেল করেন। এক্ষেত্রে নাহিদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমি সবসময় দলের কথা ভাবি। ওই সময়ে ছন্দ পাচ্ছিলাম, অধিনায়ক বলছিলেন কয়েকটা ওভার কন্টিনিউ করতে, তাই টানা সাত ওভার বোলিং করেছি’।

তার এই একটানা সাত ওভার করা নিয়ে সমালোচনার উদ্রেক ঘটেছে সর্বত্র। কারণটা পেস বোলারদের পরম আপন শত্রু ইনজুরি। নাহিদের বোলিং আনন্দের খোরাক মিটিয়েছে, তিনি দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন এ কথা সত্য। তাই বলে তাকে একেবারে নিঃশেষ করে ফেলা ঘোরতর অপরাধ বটে। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ফিটনেস ধরে রেখে দীর্ঘসময় বোলিং করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন।

আর তার ফিটনেস যে রয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে তার বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রিত লাইনলেন্থে। সাধারণত পেস বোলাররা একটানা অনেক্ষণ বল করলে ক্লান্তি ভর করে তাদের উপর। যার ফলে ভুল করার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এদিন নাহিদ ছিলেন প্রায় নির্ভুল। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার গড়ার দিনে তিনি সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন।

রানার যখন আগমন ঘটে তখন তার গতি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল বটে। কিন্তু তার লাইনলেন্থ ছিল বিরক্তির কারণ। কিন্তু সেই নাহিদ যে ক্রমান্বয়ে পরিণত হতে শুরু করেছেন- সেটার ঝলক দেখা গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ফাইফার তুলে নেওয়া ম্যাচটিতে তার লাইন ও লেন্থ ছিল দারুণ। এছাড়াও নিজের শক্তিকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন নাহিদ রানা।

সঠিক পরিচর্যাই কেবল নাহিদকে বানাতে পারে অপ্রতিরোধ্য। সেজন্য অবশ্য তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে দিতে হবে যথাযথ নজর। নতুবা আরও এক ভূপাতিত নক্ষত্র বনে যেতে পারেন তিনি। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link